হোমপেজ লোড হচ্ছে…
পর্যটকদের সাজেক থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে স্থানীয় দুই সংগঠনের অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় পাহাড়ের এক ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজেকের পথে উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলি শুরু হয়। ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন কে বলেন, সকালে উজো বাজার এলাকায় পর্যটকদের গাড়িবহর আটকে দেন অবরোধকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা ঢিল ছোড়েন।
পরে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে উজো বাজার এলাকা পার করে দেওয়া হয়। তবে অবরোধকারীদের ছোড়া ঢিলে কয়েকজন পর্যটক আহত হন বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, “একপর্যায়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেনাবাহিনী তখন পাল্টা গুলি চালায়। কিছু সময় গোলাগুলি চলে।”
পরে বিকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয়দের ‘জোরপূর্বক মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের নিরাপদে চলে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে থেমে থেমে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলে।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে সাজেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা রকিব বলেন, এ ঘটনায় কোনো পর্যটক আহত হননি। তবে অবরোধকারীদের ইটের আঘাতে সেনাবাহিনীর চার থেকে পাঁচজন এবং পুলিশের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) ‘সশস্ত্র’ সদস্যদের বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে সেখানে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
এর অংশ হিসেবে বুধবার বিকালে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করে সংগঠন দুটি। সেই সঙ্গে সাজেক থেকে পর্যটকদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার মধ্যে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক সড়কের উজো বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এদিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় আটকে পড়া পর্যটকদের সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান হেপিং ত্রিপুরা বলেন, সকালে সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক ছোট-বড় গাড়ি নিয়ে পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করেন। গাড়িবহরটি সাজেক ভ্যালি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা গাড়িবহর আটকে দেন। তাতে প্রায় সোয়া দুই হাজার পর্যটক সেখানে আটকা পড়েন।
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা সে সময় বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালন করছি। পর্যটকের গাড়িসহ কোনো ধরনের গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।
“আমরা সড়কে অবস্থান নিয়েছি পর্যটকবাহী গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা নেই।”
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন সে সময় জানান, তারা অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় পর্যটকদের গাড়িবহর বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে উজো বাজার এলাকা ত্যাগ করে।
এরপর সাড়ে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
তবে গোলাগুলির ওই খবর ‘সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে পাহাড়ের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে বলেছেন, “কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার জনগণের সাথে কথা বলে এমন খবরের সত্যতার বিন্দুমাত্র প্রমাণ মেলেনি।
“মূলত জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলিবর্ষণ করেছে।”
শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর ‘বর্বর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানান অংগ্য মারমা।
তিনি অবিলম্বে সাজেকবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ‘ন্যায্য দাবি’ মেনে নিয়ে ওই এলাকা থেকে জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর ‘সশস্ত্র’ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
পুরনো খবর
সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের আটকে দিয়েছে অবরোধকারীরাফের সড়ক অবরোধ ডাকার পর সাজেক ভ্রমণ বন্ধ করল প্রশাসনসাজেকে সড়ক অবরোধের ডাকঅনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণাবৃহস্পতিবার থেকে ফের সাজেক অবরোধের ডাকদুর্গাপূজার কারণে সাজেকে অবরোধ স্থগিত, নিষেধাজ্ঞা বহালসাজেকে অবরোধ স্থগিতের পর উঠল নিষেধাজ্ঞাও, ভ্রমণে বাধা নেই