হোমপেজ লোড হচ্ছে…
গেবেখা টেস্টে জয়ের জন্য পঞ্চম দিনে ৬ উইকেট চাই স্বাগতিকদের।
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাট হাতে চমৎকার ইনিংসের পর বোলিংয়েও দ্যুতি ছড়ালেন মার্কো ইয়ানসেন। তার ছোবলে প্রথম ইনিংসে একশর আগে গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। তাদেরকে ফলো অন করিয়ে, ফের চেপে ধরে জয়ের সম্ভাবনায় মাঠ ছাড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা।
গেবেখা টেস্টে বুধবার প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে স্রেফ ৯৯ রানে গুঁড়িয়ে দেয় প্রোটিয়ারা। ৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।
ম্যাচটি জিতে সিরিজে সমতা ফেরাতে পঞ্চম ও শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার চাই ৬ উইকেট। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে এখনও ১৭০ রান করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার।
অস্ট্রেলিয়াকে টানছেন ট্রাভিস হেড। ৯টি চারে ৮৭ রানে খেলছেন তিনি। নাইটওয়াচম্যান স্কট বোল্যান্ড অপরাজিত ২ রান নিয়ে।
ইয়ানসেনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্বাগতিকরা। দলের ভীষণ বিপদের সময় ৮৫ রানের ইনিংস খেলার পর, বল হাতে কেবল ৩৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। টেস্টে এনিয়ে পঞ্চমবার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
নতুন দিনের প্রথম ওভারে কাগিসো রাবাদাকে তিন বলে দুটি চার মারেন হেড। পরের ওভারের প্রথম বলেই নাইটওয়াচম্যান বোল্যান্ডকে কট বিহাইন্ড করে শিকার ধরা শুরু করেন ইয়ানসেন।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ইয়ানসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন হেড। রিভিউ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারকে ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্নাস লাবুশেনকে টিকতে দেননি আনরিখ নরকিয়া।
কিছুক্ষণ পর নরকিয়াকে হারানোর ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজের চতুর্থ ওভার করতে এসে তিন বল করে পায়ে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন গতিময় এই পেসার।
৪৫ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে পথে ফেরানোর চেষ্টা করেন স্টিভেন স্মিথ ও ম্যাট রেনশ। অনেকটা সময় ক্রিজে কাটান তারা দুজন। ১২ রান করতে ৪৮ বল খেলা রেনশকে ফিরিয়ে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন ইয়ানসেন। এক বল পর অ্যালেক্স কেয়ারিকে কট বিহাইন্ড করে দেন এই পেসার।
দ্বিতীয় সেশনের চতুর্থ ওভারে বাউ ওয়েবস্টারকে কট বিহাইন্ড দেন আম্পায়ার। এই দফায় রিভিউ নিয়ে বাঁচলেও, পরের ওভারেই স্লিপে ধরা পড়েন ওয়েবস্টার। তাকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ইয়ানসেন।
৪০তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গল নিয়ে ইতিহাসে নাম লেখান স্মিথ। রিকি পন্টিং ও অ্যালেন বর্ডারের পর অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১১ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
কীর্তি গড়ার পরের ওভারেই বাজে স্মিথের বিদায়ঘণ্টা। ভিয়ান মুল্ডারের ভেতরে ঢোকা চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৮ রান করে।
পরের দুই ওভারে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতি টেনে দেন রাবাদা ও মুল্ডার।
স্টার্কের উইকেটটি ছিল ঘরের মাঠে টেস্টে রাবাদার ২০০তম শিকার। দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ বোলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি, ৩৮ টেস্টে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার চেয়ে এক টেস্ট কম খেলে দুইশ উইকেট নিয়েছেন ডেল স্টেইন (২৬১)। নিজ দেশে দুইশ উইকেট আছে আর মাখায়া এনটিনি (২৪৯) ও শন পোলকের (২৩৫)।
ফলো অনে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে নিক ম্যাডিনসনকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও তিনি ফেরেন রাবাদার বলে। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে অস্ট্রেলিয়া পথে ফেরে লাবুশেন ও হেডের ব্যাটে।
ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকা লাবুশেনকে ৩৬ রানে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বাঁচেন টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। রিপ্লেতে দেখা যায় অল্পের জন্য লেগ স্টাম্পে লাগেনি বল। আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন লাবুশেন।
কয়েক ওভার পরই যেন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন লাবুশেন। সাইমন হার্মারকে ছক্কার চেষ্টায় লং-অনে ধরা পড়েন তিনি। পেছনের দিকে অনেকটা দৌড়ে দারুণ ক্যাচ নেন ইয়ানসেন। ভাঙে ৯২ রানের জুটি।
লাবুশেনের বিদায়ের আগেই ফিফটি স্পর্শ করেন হেড, ৮১ বলে। তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি রেনশ। রাবাদার ভেতরের ঢোকা ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন তিনি। বল তার প্যাডে লেগে ছোবল দেয় অফ স্টাম্পে।
ওয়েবস্টারকে দুই অঙ্কে যেতে দেননি হার্মার। আগের দিনের মতো এদিনও দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি বোল্যান্ড। ২৩ বলে খেলে দিন শেষ করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (চতুর্থ দিন শেষে):
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৪২৫/৯ ডিক্লে.
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪২.২ ওভারে ৯৯ (আগের দিন ৩/১) (হেড ১৪, বোল্যান্ড ২, লাবুশেন ১৪, স্মিথ ২৮, রেনশ ১২, কেয়ারি ০, ওয়েবস্টার ১৩, কামিন্স ৭, স্টার্ক ১, হেইজেলউড ২*; রাবাদা ১২-২-৩৩-২, হার্মার ৫.৩-০-৯-০, মার্করাম ১-১-০-০, ইয়ানসেন ১১-২-৩৩-৫, নরকিয়া ৩.৩-০-৫-১, মুল্ডার ৯.৩-৩-১৪-২)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (ফলো অন) ৫৪ ওভারে ১৫৬/৪ (ম্যাডিনসন ৮, হেড ৮৭*, লাবুশেন ৩৯, রেনশ ১১, ওয়েবস্টার ৮, বোল্যান্ড ২*; রাবাদা ১১-১-৩০-২, ইয়ানসেন ৯-১-১৪-০, মুল্ডার ৯-১-৪৭-০, হার্মার ১৮-৪-৪৭-২, মার্করাম ৭-১-১৮-০)
ছন্নছাড়া মাইকেল ক্যারিকের দলের অবস্থা আরও মলিন হয়ে পড়ল।
ছন্নছাড়া মাইকেল ক্যারিকের দলের অবস্থা আরও মলিন হয়ে পড়ল।
ছন্নছাড়া মাইকেল ক্যারিকের দলের অবস্থা আরও মলিন হয়ে পড়ল।
আফগানিস্তানের কাছে টানা পাঁচটি ওয়ানডেতে হেরে গেল বাংলাদেশ, ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিতে হলো ফাইনালের আগেই।