হোমপেজ লোড হচ্ছে…
১৮২০ সালে প্রথম পাথরের সিন্দুক থেকে চুনাপাথরের তৈরি অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কালটি শনাক্ত হয়। তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝুলে ছিল ‘কার কঙ্কাল এটি?’
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির প্রাঙ্গণে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা প্রাচীন এক রোমান সার্কোফেগাস বা পাথরের সিন্দুক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনাটি কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের চেয়ে কম নয়।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝুলে থাকা ‘কার কঙ্কাল এটি?’ এমন রহস্য এবার ভেদ করার দাবি করেছেন এক প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ। তার মতে, কঙ্কালটি কোনো রোমান নাগরিকের নয়, বরং এক মধ্যযুগীয় ধর্মযাজকের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, ১৮২০ সালে প্রথম চুনাপাথরের তৈরি এই সার্কোফেগাসটি শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে সেটাকে বর্তমান নেভের উত্তর পাশের ঘাস আচ্ছাদিত এলাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন করে বের করা হয়।
একসময়ে এটা ছিল রাজা তৃতীয় হেনরির তৈরি এক স্যাক্রিস্টির আঙিনা। তবে এ আবিষ্কারের পর থেকেই তৈরি হয় এক বড় রহস্য, এর ভেতরে আসলে কার দেহাবশেষ রয়েছে?
সার্কোফেগাসটি চতুর্থ শতাব্দীর শেষের রোমান আমলের ও এর একপাশে রোমান নকশার পাশাপাশি ‘ভালেরিয়াস আমান্দিনুস’ নামের এক ব্যক্তির লাতিন শিলালিপি খোদাই করা থাকলেও পরবর্তী খননকাজে ওই এলাকায় কোনো রোমান প্রত্নসামগ্রী মেলেনি।
ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির কনসালট্যান্ট আর্কিওলজিস্ট অধ্যাপক ওয়ারউইক রডওয়েল বলেছেন, “এটা এর আসল সমাধিস্থল ছিল না।”
তার ধারণা, সার্কোফেগাসটি কোনো সমাধির দেওয়ালের কুলুঙ্গিতে রাখা হয়েছিল ও ভালেরিয়াস আমান্দিনুস ছিলেন একজন ধনী ব্যক্তি।
পাশাপাশি, এ রোমান সার্কোফেগাসের ঢাকনাটিতে বড় খোদাই করা ক্রস বা ক্রুশচিহ্ন দেখা যায়, যা থেকে প্রমাণ মেলে, এটা মূল ঢাকনার পরবর্তী রূপান্তর।
রডওয়েল বলেছেন, “এ ক্রসটি ঢাকনার পুরো দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে রয়েছে এবং এটা সুনির্দিষ্ট লেট অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রস টাইপ।”
‘জার্নাল অফ দ্য ব্রিটিশ আর্কিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশ পাওয়া এ গবেষণায় অধ্যাপক রডওয়েল কেবল সার্কোফেগাসটির পুরনো ইতিহাসই তুলে ধরেননি, বরং ‘কুইনস ডায়মন্ড জুবিলি’ গ্যালারিতে এটা প্রদর্শন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে চালানো গবেষণার ফলাফলও সামনে এনেছেন।
সেই কাজের অংশ হিসেবেই সার্কোফেগাসটিকে পরীক্ষাগারে নিয়ে যাওয়া ও এর ঢাকনা খোলা হয়।
রডওয়েল বলেন, “আর ঠিক তখনই সেটার ভেতর থেকে সেই কঙ্কালটি দেখতে পাওয়া যায়।”
লিখিত নথি অনুসারে, কঙ্কালটি হারিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এ আবিষ্কার সবাইকে বেশ চমকে দিয়েছে। কঙ্কালের হাড়গুলোর ধরন ১৯ শতকের হাতে আঁকা ছবির সঙ্গে হুবহু মেলে।
পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, অবশেষগুলো ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি দীর্ঘ ও ৩৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি এক পুরুষের।
রহস্যের ঘটনা এখানেই শেষ নয়। সার্কোফেগাসের ভেতরটি পরিষ্কারের সময় মেঝের মতো অংশে সাদা পদার্থের তৈরি এক আয়তাকার রেখাচিত্র খুঁজে পান বিশেষজ্ঞরা।
রডওয়েল বলছেন, এটা নির্দেশ করে, মৃতদেহটিকে কাঠের কফিনে রাখার আগে চুন গুড়ো দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই কফিনটি রাখা হয়েছিল রোমান সার্কোফেগাসের ভেতরে।
হাড়ের রেডিওকার্বন ডেটিং বা বয়স নির্ণয় পরীক্ষায় দেখা গেছে, এগুলো দশম শতাব্দীর শেষ বা ১১শ শতাব্দীর শুরুর দিকের। এ প্রমাণের ভিত্তিতেই রডওয়েল মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতের দাবি তুলে বলেছেন, তিনি খুব সম্ভবত মধ্যযুগীয় কোনো ধর্মযাজক ছিলেন।
“এমন রাজকীয়ভাবে সমাহিত হওয়ার যোগ্য কেবল কোনো উচ্চপদস্থ ধর্মযাজকই হতে পারেন। এ ছাড়া ঢাকনার ওপরের ল্যাটিন ক্রস চিহ্নটিও নির্দেশ করে যে তিনি একজন প্রভাবশালী ধর্মযাজক ছিলেন।”
রডওয়েলের হিসাব অনুসারে, সে সময়কার দুজন সম্ভাব্য ধর্মযাজকের সঙ্গে মিলে যান, একজন অ্যালফউইগ, যিনি ১০২০ সালের দিকে মারা যান এবং অন্যজন উলফনথ, যিনি ১০৪৯ সালে মারা যান।
তাদের মধ্যে অ্যালফউইগ’কেই বেশি সম্ভাবনাময় মনে করছেন রডওয়েল। কারণ তিনি পূর্ববর্তী অ্যাবটের মৃত্যুর সময় থেকেই ওয়েস্টমিনস্টারের ধর্মযাজক ছিলেন ও প্রায় ২৭ বছর ধরে এই দায়িত্ব সামলেছেন।
রডওয়েলের ধারণা, পুনর্ব্যবহার করা এ সার্কোফেগাসটি প্রথমে অ্যাবি চার্চের পূর্ব অংশে স্থাপিত হয়েছিল এবং এর ঢাকনাটি ব্যবহৃত হত মেঝের স্ল্যাব হিসেবে।
পরবর্তীতে রাজা তৃতীয় হেনরির শাসনামলে নির্মাণকাজের সময় এটা তুলে এনে নতুন করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
রডওয়েল বলেছেন, “প্রত্নতত্ত্বের অনেক বিষয়ের মতো এটাও কেবল শুরু। আমরা প্রথমে যা দেখি, বাস্তবতা তার চেয়েও বেশি জটিল ও রহস্যময়।
‘পিএইচপি’ প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটি ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে ইন্টারনেট সমস্যা দেখা দিয়েছে এর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এই বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক নেই।
এ পদক্ষেপে শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রলিংয়ের আসক্তি কমবে ও তারা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুযোগ পাবে।
এআই মডেলটিতে ব্যবহারকারীরা লিংক বা ইউআরএল তৈরির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে নিজেদের আলাপ শেয়ার করতে পারতেন।
এ সুবিধার ফলে চালকরা গাড়ি চালানোর সময় হাতে ফোন না নিয়েও ব্যক্তিগত নানা তথ্যের তাৎক্ষণিক আপডেট পাবেন।