হোমপেজ লোড হচ্ছে…

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এক নারী।
মঙ্গলবার তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ছয় ও চার সদস্য রয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে মঙ্গলবার। ওই দিন তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।
নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের সদস্য মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার চাচাতো বা খালাতো বোন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), তাদের আত্মীয় ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছরে ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪) রয়েছেন। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন।
নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংখ্যা ও জনস্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পড়তেন। লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত অন্য চারজন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন- ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
নিখোঁজ তালিকায় থাকা নারীর ডিএনএ মেলেনি
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজের তালিকায় থাকা আরও একজনকে ঘিরে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
রিমন ঘোষ কে বলেন, “১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।”
মুক্তা ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে কক্সবাজারে এসেছিলেন তিনি। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমে রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। ফলে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ও নিখোঁজের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মুক্তার ডিএনএ না মেলার তথ্য সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
মামলায় আসামি ২৩, মালিক পলাতক
১৭ অক্টোবর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে তানভীর পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন।
ঘটনার দিন সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। কক্সবাজার শহর থেকে দক্ষিণে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে রিসোর্টটির অবস্থান।
রিসোর্টটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার আটটি কক্ষে পর্যটকেরা অবস্থান করছিলেন। নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা। আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে সেখান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে ১০ মৃত্যু: টুপটুপ রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
রিসোর্টে আগুন: কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার দায় কার?
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: একজনের খোঁজ মিলছে না
বেড়াতে গিয়ে অঙ্গার হওয়া স্বজনদের অপেক্ষায় পশ্চিম নন্দীপাড়া
কক্সবাজারে আগুনে নিহত ১০: আরও একজনের খোঁজে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি
কক্সবাজারে আগুনে নিহত ১০: নাহিদুর, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুঁজছে পরিবার
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বেলকনি থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন চিকিৎসক দম্পতি
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত বেড়ে ১০, ‘ছয়জনই এক পরিবারের’
১০টা মিনিট পেলে স্ত্রীও নামতে পারতেন: কক্সবাজারে আগুনে আহত আশিকুল
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ভগ্নিপতি ও শ্যালক রয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।
কক্সবাজারের রামুতে নৌকার ওপর সাজানো হয় কাগজ দিয়ে তৈরি নানা আকৃতির কল্প জাহাজ।
তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।