হোমপেজ লোড হচ্ছে…

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গেই মধ্যরাত অব্দি ছিলেন বলে দ্বীপ দাবি করেছেন।
তিনি কে বলেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের 'কুকরুক্কু' রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দ্বীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে ‘আর কিছু জানেন না’ বলে দাবি করেছেন।
বুধবার বিকালে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে।
দ্বীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায় বলে জানিয়েছেন।
তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হওয়ার পরের ঘটনা তুলে কে দ্বীপ বলেন, “আমরা তার বাসা থেকে বাইকের ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম, তার বাইকটা ঠিক করতে। ওখান থেকে ব্যাক করে ডিনার করে, দেন ‘আই ওয়েন্ট হোম অ্যান্ড হি ওয়েন্ট টু আদার প্লেস’।
কখন আপনারা আলাদা হলেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “ডিনারের পর আমরা একসঙ্গে বের হয়ে যাই। তারপরে আমি হাউজ বিল্ডিং থেকে ইউটার্ন নিয়ে বাসার দিকে চলে আসি, উনি অন্যদিকে চলে যান।
“মানে একটু ডিসটেন্স ছিল তার আমার মধ্যে। মানে আমরা একসঙ্গেই বের হই, বাট বাইক দুইজন একসঙ্গে চালাতে গেলে তো আর পাশে চালানো সবসময় পসিবল না।”
কয়টার দিকে দুজন আলাদা হয়েছেন, এ প্রশ্নে বলেন, “সময়টা এক্সাক্টলি বলাটা খুবই মুশকিল, তাও মানে ১২টা (রাত)।”
সঙ্গে থাকার সময়ে তাহসিফ কোনো ‘অস্বাভাবিক কথাবার্তা’ বা ফোনকল পেয়েছিল কি না, এ ব্যাপারে দ্বীপ বলেন, তেমন কিছুই দেখতে পাননি।
তবে খাওয়ার সময় তাহসিফের ফোনে কল এসেছিল, যেটিকে ‘স্বাভাবিক আলাপ’ বলেই মনে হওয়ার কথা বলছেন দ্বীপ।
মধ্যরাতে আলাদা হওয়ার সময় তাহসিফ বাসায় যাবেন নাকি অন্য কোথাও যাওয়ার কথা বলেছিলেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উনি আসলে কোথায় যাবেন এটা আমাকে ক্লিয়ার করে বলেননি। মানে যেহেতু উনি আমার বয়সে বড়, আমি সবসময় উনাকে জিজ্ঞেস করি না যে ভাই কোথায় যাচ্ছেন, এই আরকি।
“পরে আমি আমার বাসায় চলে আসি এবং ওই নিউজ থেকে হয়তবা শুনেছেন যে, রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি তার মাকে একটা ভয়েস মেসেজ পাঠান যে, ‘আমি আসছি’। তো ১টা ২০ এর মধ্যে আমি আমার বাসায় চলে আসছি, তার আর আমার বাসার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১৬-১৭ কিলোমিটার। মানে তার মায়ের সঙ্গে যে লাস্ট কথা হয়েছে, তার অনেক আগেই আমি বাসায় পৌঁছে গিয়েছি।”
স্বজনরা বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটা বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলেন তিনি বাসায় ফিরছেন। কিন্তু ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে ভাষ্য বাবা এনায়েতুল করিমের।
তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, মায়ের মোবাইলে সবশেষ পাঠানো ‘ভয়েজ মেসেজটি’ তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি।
এমনকি তাহসিফের বাইকটিরও এখন পর্যন্ত হদিস মেলেনি, যেটিসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা বলেছে পুলিশ।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় তাহসিফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। তার বাবা একেএম এনায়েতুল করিম অভিযোগ করেছেন, তাহসিফতে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
“আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে”, বলেন তিনি।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে তাহসিফের লাশ তার বাসার নিচে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে সন্ধ্যায় উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।
ঘনিষ্ঠ বড়ভাই তাহসিফের জানাজায় কেন অংশ নেননি- এ প্রশ্নে সেই দ্বীপ বলেন, “উনার যখন লাশ মর্গ থেকে রিলিজ হল ময়নাতদন্তের পরে, ওইটা (হাসপাতাল) আমার বাসার পাশেই, ওইখানে গিয়েছিলাম।
“এর পরে আর বের হইনি ফ্যামিলির কনসার্ন।”
‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের’ ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ তাহসিফ সাউরীর মৃত্যু: ‘প্রকৃত ঘটনা’ উদঘাটনের দাবি জামায়াতের মধ্যরাতে তাহসিফের ভয়েস মেসেজ ‘দ্রুতই আসতেছি’: তাহসিফ সুরির বাবা ‘তাহসিফকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে’, দাবি বাবার
শাহজালাল বিমানবন্দরে গত বুধবার বিকালে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ওই দুই জন।
যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে যথাসময়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি।
কমলাপুর রেলস্টেশনে কুলির কাজ করে রাসেল নামের ১৩ বছর বয়সী এই শিশু।