হোমপেজ লোড হচ্ছে…

এ সপ্তাহে ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত কোডে বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি উন্মোচিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামনে অপেক্ষমাণ আরও বড় সংকটের এটা কেবল শুরু মাত্র।
বুধবার নিরাপত্তা গবেষকরা ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়েব সামলানোর অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা ‘পিএইচপি’তে মারাত্মক সফটওয়্যার ত্রুটি ধরা পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটই এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর ভিত্তি করে চলে।
এ ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা সহজে কোনো ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করতে পারে। বিষয়টি সামনে আসতেই বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো জরুরি ভিত্তিতে তা সারানোর জন্য তরিঘড়ি শুরু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ত্রুটিটির ধরনের কারণে যারা ওয়েবসাইটগুলো সরাসরি পরিচালনা করছেন, কেবল তারাই এটা সংশোধন বা প্যাচ করতে পারবেন।
এর মতো ঝুঁকি ও আগামী দিনগুলোতে এআইচালিত সম্ভাব্য সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় ব্যবহারকারীদেরও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
‘মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ ব্যবহার করুন
মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা ‘এমএফএ’ ব্যবস্থার আওতায় যে কোনো সুরক্ষিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে দুটি ধাপের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে। যেমন পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি মোবাইলে আসা টেক্সট কোড বা সিকিউরিটি কি।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘সেনসিস’-এর প্রধান নিরাপত্তা গবেষক এমিলি অস্টিন প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা ও স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
“পিএইচপির এ ত্রুটির ক্ষেত্রে বাস্তবে একজন ব্যবহারকারীর খুব বেশি কিছু করার নেই। তারা কেবল এটুকুই আশা করতে পারেন, যেসব সেবা তারা ব্যবহার করছেন সেগুলো হয়ত পিএইচপি ব্যবহার করে না বা সেগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দ্রুত সমস্যাটি সারাতে কাজ করছেন।”
উন্নত ও সহজলভ্য লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর উত্থানের কারণে সফটওয়্যারের গোপন এসব ত্রুটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অতীতে যেসব জটিল ত্রুটি মানুষের পক্ষে খুঁজে বের করে কাজে লাগানো কঠিন ছিল, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হ্যাকাররা এখন সেগুলো খুব সহজেই খুঁজে বের করে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে।
হার্ডওয়্যারে ‘অটোমেটিক আপডেট’ চালু রাখুন
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ট্রেইল অফ বিটস’-এর সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যান গুইডো বলেছেন, “আপনার ফোন, কম্পিউটার ও হোম রাউটারে ‘অটোমেটিক আপডেট’ অপশনটি চালু রাখুন।”
কোনো ত্রুটির সমাধান তৈরি হলে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করে। ফলে দ্রুত তা ইনস্টল করে নিলে সাইবার অপরাধীদের জন্য সুযোগের পথ সংকুচিত হয়ে আসে।
তবে ড্যান গুইডো বলেছেন, সাধারণ গ্রাহকরা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছেন ব্যবহার করা সেবাদাতা কোম্পানির ওপরই।
“একজন ব্যবহারকারী কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করার মতো সব সঠিক নিয়ম মেনে চলার পরও তার তথ্য হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। কারণ, আপনি চাইলেই নিজের হাসপাতালের ওয়েবসাইট নিজে মেরামত বা প্যাচ করতে পারবেন না।”
গুইডো বলেছেন, মূল দায়িত্বটি আসলে সেবা পরিচালনাকারী বিভিন্ন কোম্পানির ওপরই পড়ে। ‘তাদের দ্রুত সমাধান এনে দিতে হবে ও কোনো সিস্টেম আক্রান্ত হলেও তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথাসম্ভব সীমিত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে’।
একই সুরে কথা বলেছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ‘গ্রানিট’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা স্যান্ডভিক। তিনি বলেছেন, ব্যবহারকারীদের উচিত নিজ নিজ ডিভাইসের অ্যাপ ও সেবাগুলোর আপডেট আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা আপডেট করে নেওয়া।
পাশাপাশি ঘরের ভেতরে ইন্টারনেটের সঙ্গে যোগ অন্যান্য ডিভাইসের কথা ভুলে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
“আমার মনে হয় এমন পরিস্থিতি হতেই পারে, যেখানে কারও বাড়িতে থাকা কোনো আইওটি ডিভাইস হয়ত ঘনঘন আপডেট পায় না বা আদৌ কোনো আপডেট পায় না। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা বা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো নিরাপত্তা আপডেট এসেছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।”
জরুরি তাগিদ ‘প্যাচ, প্যাচ, প্যাচ’
‘সারে সেন্টার ফর সাইবার সিকিউরিটি’ ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ সারে’র প্রভাষক ড. ড্যানিয়েল গার্ডহাম বলেছেন, বিভিন্ন কোম্পানিকে অবশ্যই জানতে হবে তারা ঠিক কী কী সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।
পাশাপাশি, দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ দেওয়া ও আগে থেকেই কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এআই যুগে সাইবার হামলাকারীরাই বেশি সুবিধা পাচ্ছে।
“ত্রুটি খুঁজে বের করা দিন দিন আরও দ্রুত ও সহজ হয়ে উঠছে। সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল সিস্টেমে সেই ত্রুটি সমাধান করা বেশ কঠিন। কোম্পানিগুলো কীভাবে এ ব্যবধান সামাল দিচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করবে এআইয়ের কারণে ইন্টারনেট কতটা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ হবে।”
প্রতারকদের থেকে সাবধান
সাইবার কোম্পানি ‘০আরকাস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নিক অ্যাডামস বলেছেন, যে কোনো বড় সাইবার হুমকির খবর সংবাদমাধ্যমে এলেই প্রতারক ও অপরাধীরা তার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।
অ্যাডামস বলেছেন, “এমন খবরের পর ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানির কোনো নির্দেশনা দেখতে হলে তাদের অফিশিয়াল অ্যাপ খুলে বা নিজেই ব্রাউজারে ওয়েবসাইটের ঠিকানা টাইপ করে প্রবেশ করুন, বিশেষ করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার কথা বলে পাঠানো যে কোনো জরুরি বার্তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা উচিত নয়।”
অর্থ সুরক্ষিত রাখুন
‘আমেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর ঝুঁকি, জালিয়াতি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পল বেন্ডা বলেছেন, এআই ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল আসার পর থেকেই বিভিন্ন ব্যাংক এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেছেন, “অপরাধীরা যাতে কোনো সহজ সুযোগ না পায় তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক কঠোরভাবে কাজ করেছে।”
পিএইচপি ত্রুটির এই সময়ে বিশেষ করে নতুন বা অপরিচিত অনলাইন শপে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এসব সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চয়ই ব্যাংকের মতো সুদৃঢ় হবে না।
বেন্ডা বলেছেন, গ্রাহকদের কখনোই বিভিন্ন কেনাকাটার সাইটে একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়। পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে ‘পাসকি’ ব্যবহার করা উচিত, যা সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি এক ধরনের ডিজিটাল চাবিকাঠি।
পাসকি ব্যবহারে পাসওয়ার্ড টাইপ করার প্রয়োজন পড়ে না ও তা ফিশিং হামলা ঠেকাতে কার্যকর।
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিতে কেন সাইবার আতঙ্কে বিশ্ব? পিএইচপির নিরাপত্তা সংকট: ত্রুটি জানা ছিল দুই বছর আগেই পিএইচপির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ত্রুটি কতটা গুরুতর?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন রাশিয়ার পরিশোধিত ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি মস্কোর তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে কিইভকে চাপ দিচ্ছিলেন ঠিক ওই সময়ই স্টারশিল্ডে সমস্যা দেখা দেয়।
এ বছর ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারসহ বেশ কিছু সাহিত্য পুরস্কারের ফাইনালে ও বিজয়ী হিসেবে এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে চলা তীব্র বিতর্কের পরই এ পুরস্কার চালু হল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় নতুন চালু হওয়া ‘লিব্রা’ নামের ক্রিপ্টো কয়েনের প্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
কোম্পানির চটকদার বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে দেখে মনে হতে পারে, স্মার্টওয়াচ বুঝি সায়েন্স ফিকশন সিনেমার কোনো জাদুকরী চিকিৎসাযন্ত্রে পরিণত হতে চলেছে!