হোমপেজ লোড হচ্ছে…
ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান টপকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির গড়ল শ্রীলঙ্কা।
নিজস্ব প্রতিবেদক

জয়ের জন্য শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার আট রান, হাতে উইকেট চারটি। দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়ে গেল তারা। তবে পঞ্চম বল লং-অফ দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে দিলেন জানিথ লিয়ানাগে। শ্রীলঙ্কার ড্রেসিং রুম তখন দারুণ উচ্ছ্বসিত। কয়েকজন ক্রিকেটার ডাগআউট থেকে ছুটে গেলেন মাঠে। উইকেটের দুই ব্যাটসম্যানকে ঘিরে চলতে থাকল তাদের আনন্দ-উল্লাস। অবিস্মরণীয় জয়ের উপাখ্যান রচনা করল লঙ্কানরা।
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার জয় ২ উইকেটে। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান টপকে যায় তারা এক বল বাকি থাকতে।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড এটি। সেই ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতে এখানে চূড়ায় আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গোটা ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৮৫৯। এই সংস্করণে এক ম্যাচে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখানেও চূড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ওই ম্যাচের ৮৭২ রান।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরির পর, রান তাড়া শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে আরও পেছনে চলে যায় তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংলিশদের রীতিমতো মাটিতে নামিয়ে আনল তারা অভাবনীয় এক জয়ে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সেঞ্চুরি করেন একজন, দুই জন আউট হন সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থাকতে।
১১ চার ও দুই ছক্কায় ৮৩ বলে ৯৭ রানের ইনিংসে ভিত গড়ে দেন ওপেনার আভিশকা ফার্নান্দো। চার নম্বরে নেমে ১৫ চার ও তিন ছক্কায় ১০৬ বলে ১৩০ রানের ইনিংসে দলকে টানেন পাভান রাত্নায়াকে।
আট ছক্কা ও ছয় চারে ৫০ বলে ৯৭ রান করেন অভিজ্ঞ দাসুন শানাকা। পাঁচ নম্বরে ২৭ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন লিয়ানাগে।
বিফলে গেল ব্রুকের ২১ চার ও ১০ ছক্কায় ১১৬ বলে ২০২ রানের চমৎকার ইনিংস। দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি ১১৪ বলে।
এই সংস্করণে ব্রুকই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ডাবল সেঞ্চুরি করেও পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেলেন। দলের হারের ম্যাচে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল চার্লস কভেন্ট্রির অপরাজিত ১৯৪, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রাত্নায়াকে।
শ্রীলঙ্কা আগে কখনও ৩২২ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। নতুন রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জে তাদের শুরুটা হয় জোড়া ধাক্কা দিয়ে। চতুর্থ ওভারে কামিন্দু মেন্ডিস বিদায় নেন ১৮ রান করে, পরের ওভারে অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস রান আউট হন শূন্য রানে।
সেই ধাক্কা সামলে ১৩৭ বলে ১৬৬ রানের দারুণ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন আভিশকা ও রাত্নায়াকে। সেঞ্চুরির দুয়ারে গিয়ে জেমি ওভারটনের বাড়তি বাউন্সে বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আভিশকা।
রাত্নায়াকের ছক্কায় শ্রীলঙ্কা দুইশ স্পর্শ করে ২৯তম ওভারে। শানাকা শুরু থেকেই চালান তাণ্ডব। তাদের জুটির শতরান স্পর্শ করে ৬৪ বলে। রাত্নায়াকে দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮৭ বলে। তার প্রথম সেঞ্চুরিও ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলম্বোতে।
স্যাম কারানের বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন রাত্নায়াকে। থামে ৭৯ বল ১৩৩ রানের জুটি। কারানের পরের ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৬ রানে পৌঁছে যান শানাকা। আরেকটি ছক্কার চেষ্টাতেই পরের ওভারে লিয়াম ডসনের বলে লং-অনে ধরা পড়েন তিনি।
তখনও শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৩৬ বলে ৬৭ রান। পরের ওভারেই তিনটি চারে লিয়ানাগে তুলে নেন ১৪ রান। ৪৭তম ওভারে কারানের প্রথম তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি, পঞ্চম বলে চার মেরে শেষ বলে ফেরেন সাহান আরাচ্চিগে।
৪৯তম ওভারে কেবল ৫ রান দিয়ে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন ওভারটন। শেষ ওভারে ৮ রানের প্রয়োজনে জশ টাংয়ের প্রথম বলে এক রান নেন লিয়ানাগে। পরের দুই বলে বোল্ড হন দুনিথ ওয়েলালাগে ও ইশান মালিঙ্গা। জমে ওঠে লড়াই।
চতুর্থ বলে আসিথা ফার্নান্দো এক রান নিয়ে স্ট্রাইকে দেন লিয়ানাগেকে। এরপর তার ওই ছক্কায় শ্রীলঙ্কার জয়োল্লাস।
ম্যাচের প্রথম ভাগটা শ্রীলঙ্কার জন্য ছিল হতাশার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেটের ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত পায় ইংল্যান্ড।
ওয়েলালাগের টানা দুই ওভারে ফেরেন ব্যান্টন (৫১ বলে ৫০) ও ডাকেট (৩৯ বলে ২৯)। সেখান থেকে ১২৭ বলে ১৫৯ রানের জুটিতে দলকে টানেন জো রুট ও ব্রুক।
ব্রুকের শুরুটা ছিল মন্থর। প্রথম ২৪ বলে তার রান ছিল ১৩। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে টানা দুটি ছক্কায় ডানা মেলেন তিনি। পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৪২ বলে।
৬৬ বলে ৬৯ রান করে বিদায় নেন রুট। ব্রুক চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৭৫ বলে। লঙ্কান বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে ৯৭ বলে দেড়শতে পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান।
ব্রুক ও উইল জ্যাকসের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে তছনছ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার বোলিং। দিলশান মাদুশাঙ্কাকে ছক্কা হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর বেন স্টোকসের ১৮২ রান ছাড়িয়ে যান ব্রুক।
১৮৫ রানে আউট হতে পারতেন তিনি, কিন্তু ক্যাচ নিতে পারেননি ফিল্ডার। ১৮৬ রান নিয়ে শেষ ওভার শুরু করে লিয়ানাগের প্রথম বলে ছক্কা মারেন ব্রুক। পরের দুই বলে নেন দুটি করে রান। চতুর্থ বলে চার মেরে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি, ভেঙে দেন গত মাসে শুবমান গিলের ১১৭ বলে দ্বিশতকের রেকর্ড।
শেষ বলে শেষ হয় ব্রুকের দুর্দান্ত ইনিংসটি। আট চার ও তিন ছক্কায় জ্যাকস অপরাজিত রয়ে যান ৩০ বলে ৬৬ রানে। তাদের জুটিতে ৭৯ বলে আসে ১৮৫ রান।
বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার সময়টা কাটে দুঃস্বপ্নের মতো। তবে ব্যাটসম্যানের সৌজন্যে তদের শেষটা হলো পরম আনন্দের।
পাকিস্তানের কাছে হারে শুরুর পর শ্রীলঙ্কার প্রথম জয় এটি। ইংল্যান্ড হারল দুই ম্যাচেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৪২৯/৪ (ব্যান্টন ৫০, ডাকেট ২৯, রুট ৬৯, ব্রুক ২০২, জ্যাকস ৬৬*; আসিথা ১০-১-৬৮-১, মাদুশাঙ্কা ১০-০-৮৯-০, মালিঙ্গা ১০-০-৯১-০, ওয়েলালাগে ১০-০-৫৬-২, শানাকা ৬-০-৭৪-০, কামিন্দু মেন্ডিস ২-০-১৭-০, লিয়ানাগে ২-০-৩২-১)
শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৫ ওভারে ৪৩০/৮ (কামিন্দু মেন্ডিস ১৮, আভিশকা ৯৭, কুসাল মেন্ডিস ০, রাত্নায়াকে ১৩০, শানাকা ৯৭, লিয়ানাগে ৬১*, আরাচ্চিগে ১৩, ওয়েলালাগে ৮, মালিঙ্গা ০, আসিথা ১*; অ্যাটকিনসন ৭-০-৫৭-০, টাং ৮.৫-১-৭৯-৩, ওভারটন ১০-০-৭৭-১, ডসন ১-০-৭১-১, কারান ৯-০-১০৩-২, জ্যাকস ৫-০-৪১-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: পাভান রাত্নায়াকে
লা লিগা সভাপতির বিরুদ্ধে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল।
লা লিগা সভাপতির বিরুদ্ধে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল।
লা লিগা সভাপতির বিরুদ্ধে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল।
লা লিগা সভাপতির বিরুদ্ধে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল।