হোমপেজ লোড হচ্ছে…
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে তারাসহ আটজন কম্বোডিয়া ও লাওসে গিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারের ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ড’ থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া তিন বাংলাদেশি বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিএস-২১৮) তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ তিন বাংলাদেশি হলেন—মো. সাইদুর রহমান, রবিউল ও মো. সোহেল রানা।
ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন।
এ লক্ষ্যে গত ২৪ অগাস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে আবেদন করে তারা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৩০ অগাস্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংককের প্রথম সচিব (শ্রম)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে থাইল্যান্ডের ‘মে-সট ইমিগ্রেশনের’ অধীনে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম সেফ হোমে অবস্থানরত আট বাংলাদেশিকে মুক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
তাদের মধ্যে থাকা এই তিন জন আগামীকাল দেশে ফিরছেন। বাকিরা দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়াধীন আছেন।
যেভাবে থাইল্যান্ডে পালান তারা
জনশক্তি কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে বর্তমানে থ্যাইল্যান্ডের ‘মে-সট ইসিগ্রেশনের’ অধীনে অবস্থানরত আট জনের একজন অভি জ্যাকব রোজারিও।
তার বরাত দিয়ে অনির্বাণ ফাউন্ডেশন বলছে, তিনিসহ মোট আট বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়া ও লাওসে পাড়ি জমান।
এরপর মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদের কম্বোডিয়া ও লাওসে কিছুদিন কাজ করানোর পর সেখান থেকে কাজের কথা বলে সড়ক পাথে থ্যাইল্যান্ডে নিয়ে যান।
সেখানে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে মিয়ানমারে নিয়ে যান। এরপর তাদেরকে মিয়ানমারে চীনা নাগরিক নিয়ন্ত্রিত ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ডে’ বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সেখানে ভূক্তভোগীদের দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্ক্যাম বা অনলাইনে প্রতারণার কাজ করতে বাধ্য করা হত। চীনা ওই নাগরিকদের দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতারণার কাজ করতে না পারলে চালানো হতো শারীরিক নির্যাতন।
অভি বলেন, ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ডের’ ভিতরে টর্চার সেল (ব্ল্যাক রুম) নামের ঘর ছিল যেখানে তাদের নিয়ে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এভাবেই দীর্ঘ সময় থাকতে হয় স্ক্যাম সেন্টারে। এরপর তাদের পরিবার থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দিয়ে সেখান থেকে মুক্তি পান অভি।
আর অভির সঙ্গে থাকা অন্য ভুক্তভোগীরা কৌশলে স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে থ্যাইল্যান্ডে প্রবেশ করেন।
এরপর তাদের থ্যাইল্যান্ডের ভিসা না থাকার কারণে এবং নিরাপদে দেশে ফেরতের জন্য থ্যাইল্যান্ডের ‘মে-সট ইমিগ্রেশন’ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
এরপর ‘মে-সট ইমিগ্রেশন’ বিভাগ তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে শনাক্ত করে সেইফ হোমে পাঠায়। অভি জ্যাকবসহ আট বাংলাদেশি ভুক্তভোগী থ্যাইল্যান্ডের সেই সেইফ হোমে অবস্থান করছেন।
মিয়ানমার থেকে এর আগে ফিরেছেন ২৬ জন
এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আট জন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন।
তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।
এসব কর্মীদের কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়।
পরে চাকরিপ্রার্থীদের ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ডে’ নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়।
এ কারণে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুন্দেসলিগার ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে রিয়াল জিতেছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। গোল করেছেন বের্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে।
প্রকাশিত অন্তত দুটি ছবিতে দেখা যায়, স্যুট পরা হরদীপ সিং পুরি এবং কালো সোয়েটার পরা জেফরি এপস্টিন একটি টেবিলে মুখোমুখি বসে আছেন।
বিশ্বের অন্যতম পুরোনো ‘দ্য কুইনস কমনওয়েলথ রাইটিং প্রতিযোগিতায়' অংশ নিয়ে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে হ্যালোর শিশু সাংবাদিক ইফতেশাম ইসলাম।