হোমপেজ লোড হচ্ছে…

দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বায়োএথিকসের এই এমিরেটাস অধ্যাপকের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ব্র্যাক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের স্মরণে প্রথমবারের মত এই সম্মানসূচক ফেলোশিপ চালু করল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সম্মাননা গ্রহণ করে পিটার সিঙ্গার বলেন, “এই অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে আমার কাজের শুরু হয়েছিল। আজ প্রথমবারের মত আমি এ দেশ দেখতে এসেছি এবং এর অগ্রগতি নিজের চোখে দেখার সুযোগ পেয়েছি।”
পাঁচ দশকের বেশি সময় আগে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশা ও সংগ্রামের চিত্র টেলিভিশনে দেখে আলোড়িত হয়েছিলেন তরুণ সিঙ্গার।
সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭২ সালে তিনি লেখেন তার সাড়া জাগানো প্রবন্ধ ‘ফ্যামিন, অ্যাফ্লুয়েন্স অ্যান্ড মরালিটি’।
চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষদের সহায়তায় সচ্ছল দেশ ও সামর্থ্যবানদের নৈতিক দায়বদ্ধতা কতটুকু, তা নিয়ে তার ওই লেখা বিশ্বজুড়ে চিন্তার জগতে বড় পরিবর্তন আনে।
ফজলে হাসান আবেদের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া এই সম্মাননাকে ‘বিশেষভাবে অর্থবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন পিটার সিঙ্গার।
তিনি বলেন, “সেই প্রবন্ধে আমি যে উদ্বেগ ও তাড়না প্রকাশ করেছিলাম, ফজলে হাসান আবেদও একই তাড়না থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই তাড়নাই আমাকে সারা জীবন মানুষকে এটি বোঝাতে চালিত করেছে যে বিশ্ব থেকে চরম দারিদ্র্য যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং একদিন তা পুরোপুরি নির্মূল করার চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্ব।”
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে সেই আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে এই দার্শনিক বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে তিনি নিজের সারা জীবনের কাজের প্রতিফলন ও স্বীকৃতি খুঁজে পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন তামারা আবেদ বলেন, “৫৪ বছর আগে অক্সফোর্ডে বসে টেলিভিশনের পর্দায় আমাদের মানুষের সংগ্রামের যে দৃশ্য আপনি দেখেছিলেন, তা আপনাকে এই জনপদের মানুষের কথা লিখতে আলোড়িত করেছিল। আপনার ৮০তম জন্মদিনের এই বছরে আপনাকে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা সম্মানিত।”
পিটার সিঙ্গারের দর্শনের মূল প্রশ্ন- ‘সাহায্য করার সামর্থ্য থাকলে আমাদের কী করা উচিত’- ব্র্যাকের কাজের সঙ্গেও জড়িত বলে তুলে ধরেন তামারা আবেদ।
তিনি বলেন, “সবকিছু করার মত পর্যাপ্ত সম্পদ খুব কমই থাকে। তাই কোথায় সম্পদ ব্যয় হবে এবং কার প্রয়োজনে সবচেয়ে জরুরি মনোযোগ দেওয়া দরকার, সেই সিদ্ধান্তগুলো সতর্কতার সঙ্গে নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট মানুষের কথা শোনা এবং তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে কাজের গতিপথ পরিবর্তনের মানসিকতা রাখাটাও জরুরি।”
সিঙ্গারের কাজ শিক্ষার্থীদের নানা ধারণা যাচাই, আলোচনা এবং কখনো দ্বিমত পোষণেরও খোরাক জোগায় মন্তব্য করে তামারা আবেদ বলেন, “কোনো চিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার অর্থ হল অন্যদের পাশাপাশি নিজেদের অনুমানগুলোকেও প্রশ্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকা।”
অনুষ্ঠানে পিটার সিঙ্গারের সম্মাননাপত্র পড়ে শোনান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।
সেখানে বলা হয়, নৈতিক দর্শন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কার্যকর অবদান রাখার দর্শন বা ‘ইফেক্টিভ আলট্রুইজম’, বায়োএথিকস এবং আধুনিক প্রাণী অধিকার আন্দোলনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রেখেছেন সিঙ্গার।
“আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে”, বলেন তিনি।
১৯৭৫ সালে প্রকাশিত তার বই ‘অ্যানিমাল লিবারেশন’ প্রাণী অধিকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
৫০টির বেশি বইয়ের লেখক ও সম্পাদক সিঙ্গার ‘দ্য লাইফ ইউ ক্যান সেইভ’-এর প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘ ২৫ বছর প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির লরিয়েট প্রফেসর ছিলেন।
বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও যুক্ত আছেন। দর্শন ও মানবিক কাজে অবদানের জন্য ২০২১ সালে তিনি ‘বার্গগ্রুয়েন পুরস্কার’ পান।
ফেলোশিপ নেওয়ার আগে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্র সঙ্গে বিশেষ সংলাপে অংশ নেন অধ্যাপক পিটার সিঙ্গার।
সেখানে সংকটময় বিশ্বে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার সুজান রাইলসহ কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শাহজালাল বিমানবন্দরে গত বুধবার বিকালে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ওই দুই জন।
যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে যথাসময়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি।
কমলাপুর রেলস্টেশনে কুলির কাজ করে রাসেল নামের ১৩ বছর বয়সী এই শিশু।