হোমপেজ লোড হচ্ছে…

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছে হাই কোর্ট।
আগামী ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্তের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।
আদালতে দাখিল করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনায় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে দুজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই-বাছাই এবং মামলায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নির্ধারণের কাজ এখনো বাকি।
৩০০ সিডির মধ্যে ৯০টির মূল্যায়ন শেষ
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩০০টি সিডিতে বিভিন্ন ধরনের তথ্য, কথোপকথন, ভিডিও, অডিও ও অপরাধসংক্রান্ত উপাত্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে ৯০টির মূল্যায়ন করা হয়েছে। বাকি ২১০টি সিডি পর্যালোচনা এখনো শেষ হয়নি।
আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আইসিটির কাছে থাকা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড-সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হলে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
তিনি বলেন, শুধু প্রাথমিক তথ্য পাওয়াই যথেষ্ট নয়। ফৌজদারি তদন্তের নিয়ম অনুযায়ী, তথ্য-প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সন্তুষ্ট হতে হবে। এ জন্য আইসিটির সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিখিতভাবে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।
২৭ পৃষ্ঠার অগ্রগতি প্রতিবেদন
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া ২৭ পৃষ্ঠার অগ্রগতি প্রতিবেদন গত ১৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করা হয়েছিল। মঙ্গলবার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সেই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে।
শুনানির সময় আইসিটির সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীর বক্তব্য আদালতে শোনার বিষয়েও আলোচনা হয়। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে প্রকাশ্য আদালতের পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতিতে, অর্থাৎ ‘ইন-ক্যামেরা’ শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে আদালত জানিয়েছেন।
ডিএনএতে অজ্ঞাত দুজন পুরুষ
আদালতে দাখিল করা টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৬৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা কারা জড়িত, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত এবং সন্দেহভাজন ২৫ জনের মুখের ভেতরের কোষের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাইওনিয়ার ফরেনসিকস ও ইনডিপেনডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিসে পাঠানো হয়েছিল।
পরীক্ষায় অজ্ঞাত দুজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া যায়। পরে ডিএনএর ভিত্তিতে অপরাধীর চেহারার সম্ভাব্য ছবি তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যারাবন স্ন্যাপশট ল্যাবের’ সহায়তা নেওয়া হয়। তবে এখনো ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, আইসিটি থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন।
এক বছর সময় চেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, আগের ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার মামলাটি আদেশের জন্য আদালতে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তের অগ্রগতির কথা জানিয়ে আরও এক বছর সময় চেয়েছিল। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন।
শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে, তা মূলত আইসিটির তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। একজন প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে তারা কিছু অগ্রগতি, সিডি ও দুজন ব্যক্তির নামের কথা জানিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্যই সময় চাওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, সিডিগুলো মূল্যায়নের জন্য এত দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা দরকার বলে তারা আদালতকে জানিয়েছিলেন।
শিশির মনির বলেন, ২৯ এপ্রিল টাস্কফোর্সের প্রধান এবং সিডিগুলোর বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিটির সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার সদস্যরা আদালতে উপস্থিত হয়ে পর্যালোচনার অগ্রগতি জানাবেন বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। তাদের একমাত্র ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ (৫) সেসময় বাসায় ছিল।
সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর শেরেবাংলা নগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন পর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের রহস্য উন্মোচন করে তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে; কিন্তু এক যুগেও সে রহস্য উন্মোচন আলোর মুখ দেখেনি।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র্যাবকে বাদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে এ তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে ছয় মাস বেঁধে দেয় হাই কোর্ট।
দুদকের এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন স্বস্তি নিয়েই শেষ করেছে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ৯ রানের মাথায় আউট হয়ে যান তানজিদ। সেই ধাক্কা সামলে ৭৪ ওভারে তিন উইকেটে ২১৩ রানে প্রথম দিন শেষ করে শান্তরা। আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো ৯০ ওভার খেলা সম্ভব
গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল।
দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়।