হোমপেজ লোড হচ্ছে…
বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকলেও এর আগে কারো মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই, বলছে মিশন।
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দুই বাংলাদেশির একজন সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের এবং আরেকজন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন।
ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের গত ১৮ অক্টোবরের এক চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পুরুষটি ২০২৩ সালের ১ অগাস্ট গ্রেপ্তার হন। তাকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা সংশোধনাগারে।
আর ওই বছরের ২ অগাস্ট গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নারীকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা মহিলা কারাগারে।
দুজনেই সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, অপরজনের টাঙ্গাইলে।
তবে এসব অভিযোগে এর আগে গ্রেপ্তার কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং বলছে।
শ্রম কল্যাণ উইং বলছে, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
তবে ওই ঘটনার আগে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় নানা অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়েছিল জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই অনুরোধের পর চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের নাম-পরিচয় থাকলেও শাস্তির কোনো তথ্য ছিল না।
শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে বলা হয়, তালিকার সাত নম্বর কলামে রায় ঘোষিত বন্দিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকার কথা। কিন্তু এই দুজনের নামের পাশে কোনো সাজার কথা ছিল না।
শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে এ দুজনকে আলাদা অভিযোগে গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া বন্দি তালিকার ওই তথ্যের বরাতে শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকলেও এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রমাণ নেই।
এক সপ্তাহ আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ‘কিছু না জানানোর’ কথা বলা হয় বাংলাদেশ মিশনের তরফে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির ওই খবরে বাংলাদেশি এক নারী ও পুরষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা লেখা হয়। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে দুজনের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
জেদ্দা কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা বলেন, যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হচ্ছে, তাদের বিচার চলা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো নোটিফিকেশন, কূটনৈতিক পত্র বা তথ্য দূতাবাসকে কোনো মাধ্যমে দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
১৭ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কোনো খবর, সংবাদ পাইনি। আমরা সংবাদটা পাওয়ার জন্য এবং আসলেই কী ঘটেছে, তাদের বিস্তারিত কী, তারা কবে কাজ করতে গিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের পরিচয়টা কী, এইসব বিস্তারিত জানার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।
“পরিচয় বলতে আমরা নামটা জানি। দুজনের নাম জানি। এছাড়া বাইরে ওরা কতদিন ধরে ওখানে কাজ করছে বা তাদের এম্প্লয়ার কে ছিল, কী ব্যাপার— সেই বিস্তারিত জানার জন্যই কিন্তু আমরা চিঠিটা দিয়েছি।”
তাদের মৃত্যুদণ্ডকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে অভিহিত করে সৌদি আরবের স্থানীয় আইনের কঠোরতার কথাও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
সবশেষ ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার তথ্য চায় সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রদূতকে বৈঠকে ডেকে এর আগে সৌদি সরকারের কাছে পাঠানো নোট ভার্বালের একটি কপি হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়, “রায়ের কপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
ওই চিঠিতে বলা হয়, জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন চারিত্রিক মামলায় আটক ৩০৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪৭ জনের সাজা ঘোষিত হয়েছে। এর মেয়াদ সর্বনিম্ন ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। সাইবার অপরাধে মক্কায় আরও তিনটি পৃথক মামলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছে।
চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়ায় কনস্যুলেটের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়।
বলা হয়, সৌদি ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্য আদালতে শুনানির সময় অনুবাদক নিয়োগ দেওয়া হয় দেশটির ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহিদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে মিশনের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।
সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার বাংলাদেশির পরিবার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে, কিংবা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি সহায়তার আবেদন করে। কিন্তু এ দুজনের পরিবার তা করেনি, কোনো যোগাযোগও করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় বা তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।
মৃত্যুদণ্ডের ধারায় চলা বিচার এবং রায় কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকার থেকে বাংলাদেশ মিশনকে ‘না জানানো’ হয়ে থাকলে সেটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসা গোলাম মসীহ বলেন, “আমার কাছে তো খুব অবাক লাগল যে, এত সিরিয়াস একটা কেইস, আর ডিসিশন তো এক দিনেই হয়নি, একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে হয়েছে।
“ওভার দ্য পিরিয়ড হলে এইটা তো নলেজে অবশ্যই থাকা উচিত ছিল। নলেজের বাইরে কীভাবে গেল? এইটা সম্ভবপর না। আমার সময়ে সবাই তাই দেখেছে, আমার সময় সেটাই হচ্ছিল।”
‘জানানো হয়নি’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ দেখেন না রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকী।
তার কথায়, “জানাটা আমার দায়িত্ব, আমার কাজের অংশ, তাই না। সুতরাং, এইটা আমি এভাবেই বলব যে, এসব বিষয় আরও অনেক বেশি খবর নেওয়ার দরকার, আরও অনেক বেশি সচেতন থাকা দরকার।”
সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: ‘জানতাম না’ বলে দায় এড়াতে পারে ঢাকা? সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ‘শেষবার ফোনে মেয়ে বলেছিল, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে’ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ‘তথ্য পেলে’ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে মন্ত্রণালয় সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ছেলের লাশের অপেক্ষায় বাবা-মা মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তথ্য চাইল সরকার
বিশ্বের অন্যতম পুরোনো ‘দ্য কুইনস কমনওয়েলথ রাইটিং প্রতিযোগিতায়' অংশ নিয়ে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে হ্যালোর শিশু সাংবাদিক ইফতেশাম ইসলাম।
ইভিএমগুলো বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভাড়াসহ নানা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।
ইভিএমগুলো বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভাড়াসহ নানা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।
ইভিএমগুলো বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভাড়াসহ নানা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।