হোমপেজ লোড হচ্ছে…
কানাডার মন্ট্রিয়ল থেকে শৈশবের বন্ধুর সন্ধ্যার সঙ্গে স্মৃতিচারণা করছেন, যিনি শৈশবে সিলেটে চলে গিয়েছিলেন। প্রবাসজীবন, স্মৃতি এবং পুরোনো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখা:

‘মিলি, তুই আমাদের বাসায় দুর্গাপূজায় আসবি?’প্রাথমিক স্কুলজীবনে সেটাই ছিল আমার প্রথম ব্যক্তিগত নিমন্ত্রণ।আমরা তখন স্কুলে পাশাপাশি বসতাম। টিফিনে একসঙ্গে খেতাম, খেলতাম, কত গল্প যে করতাম! আমাদের দুজনেরই অনেক কিছুতে মিল ছিল। একটা শিউলি ফুল কুড়িয়ে পেলেই দুজনেই কী যে খুশি হতাম!মনে আছে, স্কুলের মাঝখানে ছিল একটা বড় গাছ, তার চারপাশে চওড়া বাঁধানো গোলচত্বর। ওই জায়গাটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে প্রিয়। কখনো সেই গাছের নিচে বসে গল্প করতাম, হোমওয়ার্ক করতাম।আর কখনো খুব নিচু গলায় দুজন মিলে গুনগুন করে গান গাইতাম।তুই রবীন্দ্রসংগীত শিখতি। তোর গলার স্বরটা কী মিষ্টি ছিল! ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী…’ গানটা কী সুন্দরই না গাইতি!সন্ধ্যা, তুই খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলি। আস্তে আস্তে কথা বলতি। মাথাভর্তি ঘন কালো চুল, দুই বেণি করে স্কুলে আসতি।তোদের বাসা ছিল রাজারবাগে।সেবার দুর্গাপূজায় আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে তোদের বাসায় গিয়েছিলাম। কী যে আয়োজন ছিল তোদের বাসায়! ঘরে বানানো দই, সন্দেশ, নাড়ু, পায়েস, মিষ্টি, ফল, লুচি বা পুরি, আরও কত কী! সব এখন আর মনে নেই।বিকেলের দিকে আমরা সবাই মিলে পূজামণ্ডপ দেখতে বের হয়েছিলাম।চারদিকে পূজার আমেজ। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ভিড় ঠেলে মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দেখছিলাম। আমি এত বড় প্রতিমা এর আগে কখনো দেখিনি। কোথাও ঢাকের শব্দ, কোথাও শাঁখ বাজছে। ধূপের গন্ধ, ফুলের গন্ধ, মানুষের ভিড়, চারপাশে সাজসজ্জা।তোদের সঙ্গে কাটানো সেই বিকেলটা আমার মনে কোথাও খুব গভীরে এখনো গেঁথে আছে।সেদিনই তোর বাবা বলেছিলেন, ওনার বদলি হয়েছে সিলেটে। আমাদের প্রাথমিক স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলেই তোরা চলে যাবি।কথাটা শুনে সেদিন আমার কী যে মন খারাপ হয়েছিল! তখন কি আর বুঝতাম, তুই চলে গেলে তোকে আর কোনো দিন খুঁজে পাব না!তারপর কয়েকটা দিন কীভাবে কেটে গেল, বুঝতেই পারলাম না। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো। তোরা চলে গেলি।যাওয়ার আগে তুই বলেছিলি, ‘পৌঁছে তোকে চিঠি দেব। আব্বা পোস্ট করে দেবে।’আমি সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা করতাম। রোজ! কিন্তু কোনো দিন কোনো চিঠি এল না। তোদের ঠিকানাটাও আমার কাছে ছিল না।আমি জানি, তুই নিশ্চয়ই চিঠি লিখেছিলি। হয়তো কোথাও পোস্ট অফিসে হারিয়ে গিয়েছিল। অথবা কোনো কারণে আমার কাছে পৌঁছায়নি।তোর জন্য কত যে কেঁদেছি লুকিয়ে লুকিয়ে! মন খারাপ হতো খুব। অকারণেই চোখের কোণটা ভিজে উঠত।প্রাথমিক স্কুল শেষে আমি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। নতুন স্কুল, নতুন ক্লাস। আমাদের তো একসঙ্গে পড়ার কথা ছিল। সেটা নিয়ে আমরা কত গল্প আর পরিকল্পনা করেছি!অলংকরণ: এস এম রাকিবনতুন স্কুলটা আগের স্কুলের চেয়ে আরও বড়। অনেক ফুলের গাছ, বড় বড় গাছ, মাঠ; তবু প্রথম দিকে একদম ভালো লাগত না।টিফিনের সময় একা কোনো একটা গাছের নিচে বসে গল্পের বই পড়তাম।কিন্তু পড়া গল্পটা নিয়ে কথা বলার মতো কেউ ছিল না।এরপর জীবন নিজের মতো করে চলতে থাকল।স্কুল বদলেছে। জীবনে কত মানুষ এসেছে। কতজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। কেউ দূরে চলে গেছে বা ব্যস্ত হয়ে গেছে, কেউবা জীবনের অন্য কোনো মোড়ে হারিয়ে গেছে।কিন্তু ছোটবেলার কিছু বন্ধুকে বোধ হয় কখনো ভোলা যায় না। মনের ভেতর কোথাও একটা জায়গা তাদের জন্য ঠিকই থেকে যায়।তুইও তেমনই একজন।জানিস, মাঝেমধ্যে তোকে ফেসবুকে খুঁজি।মনে মনে ভাবি, সন্ধ্যা এখন কোথায় থাকে? কী করে? ভালো আছিস তো?কখনো তোরও কি মনে পড়ে হালকা পাতলা, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা পাশাপাশি বসে থাকা সেই দুই ছোট্ট মেয়ের কথা? একজনের ঘন কালো, হালকা কোঁকড়ানো চুলে দুই বেণি করা, আর অন্যজনের মসৃণ লম্বা চুল।আমার অবশ্য এখন আর সেই লম্বা চুল নেই রে! কানাডায় আসার পর বছরখানেক যত্ন করে রেখেছিলাম। শীতের ঠান্ডায় শেষ পর্যন্ত লম্বা চুলটা একটু মানানসই করে ছোট করে ফেলেছি।তুই এখন দেখতে কেমন হয়েছিস, বল তো? জানিস, আমি কিন্তু বেশ মুটিয়ে গেছি! আর হ্যাঁ, এখন চশমাও পরি। কলেজে ওঠার কিছুদিন আগে থেকেই চশমা নিতে হয়েছিল। মা বলতেন, ‘বেশি বেশি গল্পের বই পড়ার ফল!’মনে আছে, স্কুলের সামনে থেকে আমরা ঝালমুড়ি কিনতাম? ঝালমুড়ি খাওয়া শেষ হলে মাঝেমধ্যে দেখতাম, ঠোঙাটা কোনো গল্পের বইয়ের ছেঁড়া পাতা দিয়ে বানানো কি না!একদিন একটা মজার চার ঠ্যাংগা ভূতের গল্প পেয়েছিলাম। তারপর বাকি অংশটা জানার জন্য আমার কী যে আগ্রহ! কিন্তু গল্পটা কোন বইয়ের, কোথা থেকে পাব? সে কী আফসোস!রাস্তার পাশে মাঝেমধ্যে একজন অতি পুরোনো, ময়লা, ছেড়া কাপড় পরা, জটা চুলের মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতাম। সবাই তাকে পাগল বলত। আমরা তাকে ভীষণ ভয় পেতাম।একদিন তুই আর আমি গল্প করতে করতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। গল্পে এতটাই মেতে ছিলাম যে কখন যে গিয়ে তার একেবারে সামনে পড়ে গেছি, খেয়ালই করিনি!তুই তাকে দেখেই চিৎকার করে এক লাফে দূরে সরে গেলি। আর আমি তো ভয়ে একেবারে জমে গিয়েছিলাম, নড়তে পারছিলাম না।তুই আবার দৌড়ে এসে আমার হাত ধরে টানতে টানতে আমাকে সেখান থেকে নিয়ে গিয়েছিলি।সেই মানুষটার কথা আমার মাঝেমধ্যে মনে পড়ে। আহা, তার বাড়ি কোথায় ছিল? কেন তিনি এমন হয়ে গিয়েছিলেন? কেউ কি তাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল? তারও কি কোনো গল্প ছিল, যে গল্পটা আমরা কোনো দিন জানতে পারিনি?ছোটবেলায় যাকে দেখে ভয় পেতাম, আজ এত বছর পর তার জন্যই কেন যেন মায়া হয়।অনেক কিছুই লিখলাম, যতটুকু মনে পড়েছে। এমনও হতে পারে, কিছু ঘটনা হয়তো ঠিক এমন ছিল না। হতে পারে, সময়ের সঙ্গে কিছু স্মৃতি এবং কথা আমার কল্পনার সঙ্গে মিশে গেছে। তারপরও যতটুকু মনে আছে, যতটা সম্ভব সেভাবেই লেখার চেষ্টা করেছি।কে জানে, কোনো দিন যদি হঠাৎ তোর চোখে পড়ে এই লেখা!যদি মনে হয়, ‘আরে… এ তো আমার ছোটবেলার কথা!’তারপর হয়তো কোনো একদিন হঠাৎ ফেসবুকে দেখব,Friend Request: Shondhya Rani.আমি সেই অপেক্ষায়…অনেক কিছুই লিখলাম, যতটুকু মনে পড়েছে। এমনও হতে পারে, কিছু ঘটনা হয়তো ঠিক এমন ছিল না। হতে পারে, সময়ের সঙ্গে কিছু স্মৃতি এবং কথা আমার কল্পনার সঙ্গে মিশে গেছে। তারপরও যতটুকু মনে আছে, যতটা সম্ভব সেভাবেই লেখার চেষ্টা করেছি।কে জানে, কোনো দিন যদি হঠাৎ তোর চোখে পড়ে এই লেখা!যদি মনে হয়, ‘আরে… এ তো আমার ছোটবেলার কথা!’তারপর হয়তো কোনো একদিন হঠাৎ ফেসবুকে দেখব,Friend Request: Shondhya Rani.আমি সেই অপেক্ষায়…দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
বস্তুত জীবনানন্দ দাশের কবিতার জাদু, গভীরতা এবং নান্দনিকতাই তাঁকে ‘কবিদের কবি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর কবিতা শুধু পাঠের জন্য নয় বরং অনুভব এবং বিশ্লেণের জন্যও। তিনি এমন এক কবি, যিনি বাংলা কবিতাকে শুধু সমৃদ্ধ করেননি, বরং তাকে নিয়ে গেছেন এক নতুন মাত্রায়।
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ময়লা ভাগাড়ের (স্যানিটরি ল্যান্ডফিল) একটি অংশ ঢেকে গেছে সবুজে। স্থানীয় কিছু লোকজন সেখানে জায়গা সমান করে চাষ করেছেন সবজি। পাট শাক, লাল শাক, পুঁইশাক, কলমি শাকসহ নানা রকমের সবজি চাষ হচ্ছে ময়লার স্তূপ ও তার তার আশপাশে।
আহতদের মধ্যে শিশুটির মা-বোন ও এক বিজিবি সদস্য আছেন।
আপাতত তেঁতুলিয়ার বিস্তীর্ণ চা-বাগান, মহানন্দা নদীর সৌন্দর্য ও সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকরা।