হোমপেজ লোড হচ্ছে…

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে সেবাদানকারী স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিস লিমিটেডের সেবা বন্ধ হতে চলেছে বৃহস্পতিবার।
তবে এই সেন্টারে চিকিৎসা নেওয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগী সেবা কার্যক্রমটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা কমিটি (চমেক) হাসপাতাল’ ব্যনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সরকার স্যান্ডোরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে না চাইলে সেন্টারের বর্তমান অবকাঠামো এবং জনবল অধিগ্রহণ করে দেশীয় কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপিপির অধীনে এটি চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রোগীরা।
ক্রমবর্ধমান কিডনি রোগীদের অপ্রতুল ডায়ালাইসিস সেবার কথা বিবেচনা করে সরকার ২০১৭ সালে পিপিপির অধীনে ১০ বছরের চুক্তিতে ভারতীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর এর সাথে চুক্তি করে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে ৩১টি মেশিন নিয়ে একটি ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছিল।
বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে রোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে শুভ ভট্টাচার্য্য বলেন, “বর্তমানে আমরা ২৭৬ জন কিডনি রোগী এই সেন্টারে নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহণ করে মোটামুটি সুস্থভাবে জীবনযাপন করে আসছি। কিন্তু ১০ বছর শেষে সরকারের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের কথা জেনে বর্তমানে খুবই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।”
এই সেন্টারে সরকারি ভর্তুকির সুবাদে ৬২১ টাকায় একবার ডায়ালাইসিস করা যায়। সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে ডায়ালাইসিসের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম যেমন- ডায়ালাইজার, ওষুধ, টিউব, সিরিঞ্জ, স্যালাইন, স্যানিটাইজার, গ্লাভসসহ সবকিছু প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়। যার যতটি ডায়ালাইসিস প্রয়োজন (সপ্তাহে এক থেকে তিনটি) সেভাবে শিডিউল নিতে পারে। সপ্তাহে ৭দিন রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেন্টার খোলা থাকে।”
স্থানীয় সংসদ্য (চট্টগ্রাম-৯) আবু সুফিয়ান ডায়ালাইসিস সেন্টারটি অন্তবর্তী সময় পর্যন্ত চালু রাখতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন জানিয়ে শুভ ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সচিব এবং সিটি মেয়রের সাথেও কথা বলেছি।
“সবার সাথে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, যেহেতু সরকারের সাথে ভারতের বর্তমানে কূটনৈতিক সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, এমতাবস্থায় সরকার কোনো ভারতীয় কোম্পানির সাথে নতুন করে কোন চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার স্যান্ডোরের সাথে চুক্তি রিনিউ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আরও জেনেছি, এর পরিবর্তে স্যান্ডোরের বিদ্যমান সেন্টারের জায়গায় সরকারি উদ্যোগে নতুন করে ডায়ালাইসিস মেশিন বসিয়ে চমেক হাসপাতালের ১৭নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হবে। সেখানে রোগীরা ২০ হাজার টাকায় ছয় মাস ডায়ালাইসিস করাতে পারবে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ডায়ালাইসিসের খরচ পড়বে ৪১৭ টাকা।
“হাসপাতালের পরিচালকের তথ্য মতে, নতুন মেশিন কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং জনবলের জন্য নার্স বাছাই করে ঢাকায় ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। নতুন মেশিন বসাতে ৩ মাস সময় লাগবে। এ সময়ে রোগীদেরকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস করতে হবে। এর জন্য সরকারের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।”
শুভ ভট্টাচার্য্য বলেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ভর্তুকি মূল্যে অর্থাৎ ৬২১ টাকায় ডায়ালাইসিস করতে পারবে। আর বরাদ্দ পাওয়া না গেলে, রোগীদেরকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে হবে।
“মেডিকেলে জায়গা না থাকায় এ সময়ে মেডিকেলে অস্থায়ী ভিত্তিতেও ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা সম্ভব না। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইন-হাউস ডায়ালাইসিস ইউনিটে মোট ১৮টি মেশিনে ডায়ালাইসিস করা হয়। সেখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেশি।”
ফলে নতুন রোগীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এই ওয়ার্ডের অধীনে ডায়ালাইসিস সিডিউল পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হবে এবং দীর্ঘ সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।
১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একজন রোগীর জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুটি ডায়ালাইসিস বরাদ্দ থাকা, অপ্রতুল জনবল, বেশিরভাগ সময় ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট থাকা এবং নতুন রোগীকে শুরুতে কোনো হেপাটাইটিস টেস্ট না করানোসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
শুভ ভট্টাচার্য্য বলেন, “এখানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে ডায়ালাইসিস সেবা পেতে বিঘ্ন ঘটে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে ডায়ালাইসিস করতে রোগীদের প্রকৃতপক্ষে প্রতি ডায়ালাইসিসে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা খরচ হয় এবং পরিচালকের বলা ‘৪১৭ টাকায়’ ডায়ালাইসিস মূলত একটি শুভঙ্করের ফাঁকি।
“ফলে স্যান্ডোরের রোগীদেরকে ১৭নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে নেওয়ার মানে হচ্ছে তাদেরকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। আর টাকা খরচ করেও শান্তি লাগত, যদি রোগীরা সঠিক সেবা পেত।”
আরেক রোগী অভিজিৎ বড়ুয়া বলেন, “সরকার অন্তবর্তী সময়ে যেসকল বেসরকারি হাসপাতালে আমাদের ডায়ালাইসিসের পরিকল্পনা করছে সেগুলোর মধ্যে কিছু স্যান্ডোরের মানে ডায়ালাইসিস দিতে সক্ষম।
“কিন্তু প্রতি সেশন ডায়ালাইসিসের খরচ হবে সাড়ে তিন হাজার থেকে সাত হাজার দুইশ টাকা। এত বিপুল খরচ রোগীদের পক্ষে বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব না।”
কিডনি রোগী মোহাম্মদ মামুন বলেন, “সরকার এক্ষেত্রে ভর্তুকি দিলেও আমাদের ভয় ডায়ালাইসিসের সাপোর্টের দেবার কথা বলে আলাদা বিল যুক্ত করে দেবে, যা রোগীকেই বহন করতে হবে।
“ডায়ালাইসিস চলাকালে অনেক রোগীর শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব ক্ষেত্রে রোগীদেরকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি হতে বাধ্য করার এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় খরচ রোগীর উপর চাপিয়ে দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।”
আরেক রোগী রঞ্জন গোমেজ বলেন, “১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বা প্রাইভেটে, যেভাবেই আমাদের ডায়ালাইসিসেসর ব্যবস্থা করা হোক, তা বর্তমানে আমরা যে সেবা পাচ্ছি, তার তুলনায় অনেক বেশি প্রতিকূল হবে। এজন্য আমাদের সকল রোগী এবং অ্যাটেন্ডন্টেদের চাওয়া, পিপিপির অধীনে এ প্রকল্পটি চালু থাকুক।”
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শুভ ভট্টাচার্য্য বলেন, “চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। স্যান্ডোরের বিষয়টিকে কূটনৈতিক রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখার বদলে সরকার এটিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখে ২৭৬ জন রোগীকে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিক।
“সরকার স্যান্ডোরের সাথে চুক্তি নবায়ন না করতে চাইলে, বর্তমান অবকাঠামো এবং জনবল অধিগ্রহণ করে দেশীয় কোন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে পিপিপির অধীনে এটি চালু রাখতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমরা পূর্বের ন্যায় পিপিপি চুক্তির মাধ্যমে যে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় এই ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহণ করতে চাই; কোম্পানি যেটিই হোক না কেন, আমাদের আপত্তি নেই। আমরা শুধু আমাদের জীবন বাঁচানোর জন্য পূর্বের নিয়মান্ত্রিক সেবাটি সচল দেখতে চাই।”
কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থার মো. আব্দুল আলী, কিডনি রোগী তানভিন জান্নাত ও উৎপল দাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মো. নজরুল হোসেন শুকরিয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
শিবগঞ্জের উথলি এলাকায় পৌঁছালে ৪-৫ জন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসের গতিরোধ করে।
আগামী সপ্তাহের মধ্যে হলের চারপাশে দেয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টদের নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য।
পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির স্থানীয় দুই সংগঠনের ডাকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।
“দুপুরে দুজন লোক তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।”