হোমপেজ লোড হচ্ছে…

এই বাংলায় জন্ম নেয়া ভারতবর্ষের অসামান্য সম্পদ, রাষ্ট্রীয় পদক পদ্মভূষণপ্রাপ্ত শিল্পী যোগেন চৌধুরী (১৯৩৯-২০২৬) ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন বাংলাদেশের শুভানুধ্যায়ী। উচ্চশিক্ষার্থে এ দেশ থেকে যাওয়া শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের হিতৈষী ও শিক্ষক ছিলেন। গত শতকের নব্বই দশক থেকে ২০১৮ সাল অব্দি সুযোগ মিললেই অনেকবার জন্মভূমিতে এসেছেন।
বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সবশেষে ছিলেন ভেন্টিলেশনে। তবে শেষ রক্ষা হলো না! গত পনেরো মাস ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় আক্রান্ত হন মূত্রনালীর সংক্রমণে। সেই থেকেই ভর্তি হাসপাতালে। আজ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সাল ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যোগেন দার প্রয়াণের খবরে শোকের আবহ এসেছে বাংলা-ভারত এই দুই দেশের পুরো চারুশিল্পের ভুবনে।
আমন্ত্রিত হয়ে বাংলাদেশে অনেকবার এসেছেন। দেখা হয়েছে তাঁর সঙ্গে প্রায় প্রতিবার। তাঁর বিস্তর অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। তিনি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে নিজের জীবন সংগ্রামের উদাহরণ দিতেন। প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় মধ্যবয়স পর্যন্ত কঠোর শ্রম দিতে হয়েছে তাঁকে। দিল্লিতে আয়োজিত একক প্রদর্শনীর সাফল্যের পর তাঁর শিল্পী জীবনে অনেকটা স্থিতি আসে। ১৯৮৭ সালে ৪৮ বছর বয়সে বিশ্বভারতীর কলাভবনে শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্তি যেমন তাঁর নিজের জন্য, তেমনই শিল্পশিক্ষার্থীদের জন্যও সুফল বয়ে আনে। তাঁর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জেনেছি- ওদের আঁকার ধরনকে যথাসম্ভব ঠিক রেখে আরও মজার এবং অর্থবহ করা যায় কিনা সেই প্রণোদনা দিতেন। আবার যোগেন দা বলতেন- শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও শিক্ষকরা কিছু না কিছু শিখেন। দীর্ঘদিন তিনি শান্তিনিকেতনে বসবাস ও কাজ করেছেন।
রেখা, অবয়ব ও অনুভবের নির্মাণে স্বাতন্ত্র্য নিয়ে চলা শিল্পী যাঁর রেখার শক্তি ও শিল্পদৃষ্টি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পপরিসরেও রেখে গেছে গভীরতম ছাপ। তাঁকে হারানো প্রাচ্যের শিল্পভুবনের জন্য অনেক বড় ক্ষতি!
আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত। বাংলা, বাঙালি ও ভারতীয় মধ্যবিত্ত সমাজ ও রাজনীতির নানা সঙ্গতি- অসঙ্গতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক চিত্র এঁকে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এসব আঁকতে আঁকতে একসময় নিজের আলাদা একটি প্রকাশ রীতি বা নিজস্ব ঘরানা তৈরি হয়ে গেছে তাঁর। ভারতীয় চারুশিল্প আন্দোলনের নানা পর্যায়, বিশেষত গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাট দশকে ওই অঞ্চলের শিল্পীদের কাজে আধুনিকতার যে ঢেউ লেগেছিল সেই জোয়ারের সঙ্গে ইউরোপীয় শিল্প আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায় তাঁর আঁকায়। তবে এই শিল্পীর বড় সফলতা হলো- তাঁর সব কাজই তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে।
যোগেন চৌধুরী ভারতীয় শিল্পকলায় একজন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী এবং একবিংশ শতাব্দীর ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রশিল্পী হিসেবে বিবেচিত।
দীর্ঘকাল ধরেই যোগেনের চিত্রকর্মের রেখার স্পষ্টতা, রেখার স্পর্শযোগ্য প্রয়োগ রঙের প্রভাবকে আরও ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। যোগেন চৌধুরী নিজে রেখার ব্যবহারে তুমুল দক্ষ; বাঁকানো রেখার মাধ্যমে তাঁর চিত্রিত চরিত্রগুলোর অভিব্যক্তিসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলায় ছিলেন সিদ্ধহস্ত। অবয়বকে বিকৃত করার মাধ্যমে তিনি চিত্রে ব্যবহৃত নারী ও পুরুষ চরিত্রগুলোর মধ্যে এক ধরনের ব্যাঙ্গাত্মক বা ক্যারিকেচারধর্মী আবহ তৈরি করেছেন।
তাঁর শিল্পকর্মে অবয়বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিল্পীর যা কিছু প্রকাশের থাকে, তা এই অবয়বের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। আর তিনি যে রঙ ব্যবহার করেন, তা মূলত সেই অবয়বকে পূর্ণতা বা বস্তুগত রূপ দেওয়ার কাজ করে।
রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে টোকিওর পথে রওনা হন সরকারপ্রধান।
কলাবিদ আর. শিবকুমার যোগেনের শিল্পকর্মকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে ‘যোগেন চৌধুরীর শিল্পের স্পন্দন ও ছন্দ-প্রকৃতি পারিপার্শ্বিকতার প্রতি তাঁর এক গভীর ও সহজাত আত্মীয়তা থেকে উৎসারিত। তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোতে কাপড়, বালিশ, সোফা এবং মানবদেহের সংবেদনশীল অভিজ্ঞতাগুলো একে অপরের ওপর এমনভাবে আরোপিত হয়েছে যে, তা এক অদ্ভুত ও রহস্যময় জগতের সৃষ্টি করে—যেখানে কোনো কিছু স্ফীত বা পূর্ণ হয়ে ওঠার পাশাপাশি অন্য কিছু শিথিল বা নুয়ে পড়ার এক রূপান্তর ঘটে। স্মৃতিজাত বিচ্যুতি এবং ব্যক্তিগত অনুষঙ্গগুলো তাঁর শিল্পরূপের প্রতীকী দ্ব্যর্থকতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে; ফলে তাঁর সৃষ্ট চিত্রাবলি কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেতের চেয়ে বরং অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতার চিত্র অনেক বেশি কাছাকাছি চলে আসে। কোনো কোনো অবয়বের ভঙ্গিতে আমরা এক ধরনের আদিম প্রাণসত্তা অনুভব করি, আবার অন্যগুলোর পরিপুষ্ট শারীরিক গঠনে খুঁজে পাই ফলের মতো রসালো সজীবতা। তাঁর চিত্রিত অবয়বগুলো গড়ে উঠেছে আলঙ্কারিক স্বেচ্ছাচারিতা ও ভাবপ্রকাশে বিকৃতির এক অনন্য সমন্বয়ে, যা এক উচ্ছল ইন্দ্রিয়চেতনায় পূর্ণ।
যোগেন চৌধুরীর শিল্প ইঙ্গিতময়তায় সমৃদ্ধ। একে অনুধাবন করতে হলে আমাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা স্মৃতিকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই—বরং সেগুলোকে সঙ্গে নিয়েই এই শিল্পকে উপলব্ধি করতে হবে। তবে, এই শিল্পকর্মকে কোনো নির্দিষ্ট আখ্যান বা গল্পের কাঠামোয় বাঁধতে গেলে তা যেমন গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে, তেমনি হারিয়ে ফেলতে পারে তার নিজস্ব সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্যগুলোও।’
শৈশব, শিক্ষাজীবন থেকে শিল্পীজীবন
যোগেন চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার অখণ্ড ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থানাধীন ডহরপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ জমিদার। তিনি গ্রামের যাত্রাপালা বা নাট্যানুষ্ঠান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেসময় বেশ কিছু পৌরাণিক দৃশ্য এঁকেছিলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর প্রতিমূর্তিও তৈরি করেছিলেন। যোগেনের মা আলপনা আঁকায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।
পারিবারিক শিল্পচর্চার আবহ থেকে ছোটবেলায়ই যোগেনের মনে ছবি আঁকার আগ্রহ তৈরি হয়।
যোগেন চৌধুরী গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। দেশভাগের ঠিক আগে যোগেন তাঁর বাবার সঙ্গে কলকাতায় আসেন; দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে পরিবারের বাকি সদস্যরাও কলকাতায় চলে আসেন। পরিবারটি তখন তাঁর এক কাকার বাসায় থাকত। সেখানেই যোগেন বাড়ির দেওয়ালে তাঁর প্রথম ছবিটি আঁকেন।
১৯৫১ সালে যোগেনের পরিবারের ঠাঁই হয় ঢাকুরিয়ার শহীদনগর কলোনিতে। ১৯৫৫ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। শিল্পীজীবনের শুরুতে অর্থাভাবে কাগজে পেন্সিল ও কলমে অঙ্কন ও স্কেচ করতেন। সেই থেকে আজীবন তিনি অঙ্কন ও স্কেচে মানুষ ও প্রাণীর অবয়ব আঁকতে আঁকতে পাশ্চাত্য অভিব্যক্তিবাদ থেকে ভারতীয় অভিব্যক্তিবাদে এসে উপনীত হন।
প্রথম কর্মজীবনের শুরুর দিকে হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে ছিলেন যোগেন। ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।
১৯৬৫ সালে তিনি ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে শিল্পের রাজধানিখ্যাত প্যারিসে যান এবং ‘একোল দে বোজ-আর্ট’ (École des Beaux-Arts)-এর অন্তর্গত উইলিয়াম হেটারের ‘অ্যাটেলিয়ার ১৭’ (Atelier 17)-এ পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি লন্ডনে পাঁচ মাস অতিবাহিত করেন।
প্যারিস থেকে ফিরে আসার পর যোগেন চৌধুরী তাঁর নিজস্ব শৈলী গড়ে তোলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্মগুলো কালি, জলরঙ এবং প্যাস্টেলে করা; তবে তিনি তৈলচিত্রও এঁকেছেন। ভারতের তরুণ শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম।
১৯৬৮ সালের শুরুর দিকে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। তিনি চেন্নাইয়ের হ্যান্ডলুম বোর্ডে টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে নিযুক্ত হন। আঁকার পাশাপাশি ঝোঁক ছিল লেখালেখিতেও।
১৯৭০ সালে তিনি ‘কলকাতা পেইন্টার্স গ্রুপ’-এ যোগ দেন। একই বছর তাঁর কবিতার প্রথম সংকলন ‘হৃদয় ট্রেন বেজে ওঠে’ প্রকাশিত হয়।
১৯৭২ সালে তিনি মাদ্রাজ হ্যান্ডলুম বোর্ডের চাকরি ছেড়ে নতুন দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটর হিসেবে যোগ দেন। এই নতুন চাকরির সুবাদে তিনি নতুন দিল্লিতে চলে যান। ১৯৭৫ সালে তিনি নয়াদিল্লির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় চিত্রশিল্পীর সঙ্গে মিলে সেখানে ‘গ্যালারি ২৬’ ও ‘আর্টিস্টস ফোরাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে বাগদাদে আয়োজিত ‘শিল্প উৎসব’ (Festival of Art)-এ যোগেন ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
যোগেন চৌধুরীর চিত্রকর্মের নানা পর্ব
শিল্পী যোগেন চৌধুরীর চিত্রকর্মগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ অবধি তাঁর কলেজের প্রথম দিকের কাজ; ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ অবধি আঁকা তাঁর ফিগার স্টাডিগুলি; প্যারিসে থাকাকালীন ’৬৫ থেকে ’৬৮ অবধি করা কাজ; ’৬৮ থেকে ’৭২ চেন্নাইয়ে থাকাকালীন কালি দিয়ে আঁকা চিত্র; ’৭২ থেকে ’৮৭ অবধি দিল্লিতে বসবাসকালীন আঁকা ড্রয়িং, কালি দিয়ে আঁকা চিত্র ও তৈলচিত্র; ’৮৭ থেকে শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন কালি দিয়ে আঁকা চিত্র, তৈলচিত্র ও ড্রয়িং; এবং কিছু ফিগারেটিভ পেইন্টিং, যেগুলি শিল্পী হিসেবে তাঁর বিবর্তনের পথটি চিহ্নিত করে। যোগেন চৌধুরীর কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘Mona Lisa in My Dream’ (১৯৭৭)। এই কাজে যোগেন চৌধুরী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত ‘মোনালিসা’কে নিজের কল্পনার সঙ্গে মিশিয়ে এক অভিনব নারীমূর্তির উপস্থাপনা করেছেন।
‘In My Dream’ (১৯৭৭) ছবিতে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তুর এক অন্য অর্থ। এই ছবিতে সাধারণ সামগ্রীর মধ্যেও কীভাবে আকর্ষণ ও রহস্য তৈরি করা যায়, তাই যেন প্রকাশ পেয়েছে।
কখনও তাঁর চোখে মোনালিসার অনন্য এক রূপ, অন্যান্য ছবি বা তিনকন্যার মতো বিখ্যাত ছবি এখনও ভারতীয় আধুনিক শিল্পকলার ইতিহাসে যেন এক একটি অমর সৃষ্টি।
তাঁর ছবিতে রং ও প্যাস্টেলের ব্যবহারে কখনও ফুটে উঠেছে নারীর অবয়ব। আবার কখনও ফুটে উঠেছে মানব শরীরের সূক্ষ্ম রেখা এবং ভঙ্গির নাটকীয়তা। নারী ও পুরুষের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির ইঙ্গিত।
তাঁর আরও একটি বিখ্যাত কাজ হলো Three Women (১৯৯২)। এই ছবিতে তিনটি নারীচরিত্রের উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁদের শরীরের লাস্যময়ী গঠন, ভঙ্গির মধ্যে বৈচিত্র ফুটে এসেছে। তবে শুধু তিন কন্যাই নয়, তাঁর ‘Moonstruck’ (১৯৯৫), ছবিতেও ফুটে উঠেছে নারী শরীরের শৈল্পিক রূপ।
কিন্তু শুধু নারী চরিত্র নয়, ‘Man with a Chaddar’ (১৯৮১) ছবিতে ধরা পড়েছে রেখার জালে গড়া মানব অবয়ব। কালো ক্যানভাসে চাদর জড়ানো এক পুরুষের অবয়ব এই ছবির মূল আকর্ষণ।
ঘন ‘ক্রস-হ্যাচিং’ আর্ট ওয়ার্কের ব্যবহারে ফুটে উঠেছে চাদরের ভাঁজ এবং শরীরের গঠন। রেখার সূক্ষ্ম বুননই তাঁর কাজের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
তাঁর কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ফিগারেটিভ এক্সপ্রেশনিজম। সহজ কথায়, মানুষকে হুবহু না এঁকে তার ভিতরের অনুভূতিকে চিত্রিত করা। শরীরকে ইচ্ছে করে বেঁকিয়ে আঁকা হয়, যাতে মানসিক টানাপড়েন, অসহায়তা আর অভিব্যক্তিতে ফুটিয়ে তোলা যায়। তাই তাঁর ছবির মানুষ সুন্দর নয়। কিন্তু সত্যি।
আর এই শিল্পকর্মগুলির মধ্য দিয়ে যোগেন চৌধুরীর সৃষ্টির বৈচিত্র, মানবদেহের প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ পায়। তিনি ভারতীয় আর্টফর্মে তাঁর নিজস্ব একটি স্টাইলকে গড়ে তুলেছিলেন।
অসংখ্য চিত্রকর্ম ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিনি সমসাময়িক শিল্পকলা নিয়ে প্রচুর লেখালেখিও করেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিল্প প্রদর্শনীতে বিচারক (জুরি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
প্রিক্স লে ফ্রান্স দে লা জিউন পেইন্টার, প্যারিস (১৯৬৬) দ্বারা পুরস্কৃতকৃত হয়েছেন।
হাভানা, কিউবা (১৯৮৬) এর দ্বিতীয় বিয়েনেলে পুরস্কৃতকৃত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রিন্ট বিয়েনাল, ভোপাল (১৯৯৫) এ পুরস্কৃতকৃত হয়েছেন।
মধ্যপ্রদেশ সরকার কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ কালিদাস সম্মানে সম্মানিত, (২০০১)।
সম্মানসূচক ডি.লিট. রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা (২০১০)।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত (২০১২)।
জন্মভূমি বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ জয়নুল পদক (২০১৬) দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
২০১৬ এর পর ২০১৮ সালে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন এশীয় দ্বি-বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে এবং তৎকালীন সরকার প্রধানের আমন্ত্রণে। সেবার ধানমণ্ডি ৬ সড়ক সন্নিহিত গ্যালারিতে যোগেন দার সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ দেখা ও কথাবার্তা হয়।
তাঁর প্রয়াণে শিল্পজগতে বড় ক্ষতি হলেও তাঁর সৃষ্টি থেমে থাকবে না ক্যানভাসের সীমানায়। এই মহান শিল্পীর তুলির টান, নিজস্ব শৈল্পিকভাষা এবং সৃষ্টির স্বতন্ত্র জগৎ বেঁচে থাকবে শিল্পানুরাগীদের মনে।
“অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ওড়ানোকে আমরা আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছি,” বলেন প্রক্টর।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব— প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হলো রোববার। এ উপলক্ষে ঢাকার বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে আয়োজন করা হয় ফানুস উৎসব। নানা রঙের ফানুসে বর্ণিল হয়ে ওঠে ঢাকার আকাশ। ঢাকঢোল বাজিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন নানা বয়সী মানুষ।
রাজধানীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে।