হোমপেজ লোড হচ্ছে…
মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ২৩টি সাইবার ত্রুটি উন্মোচনে সাহায্য করেছেন চীনের ‘হোয়াইট হ্যাট’ হ্যাকার হিসেবে পরিচিত ইউকি চেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক সাইবার জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমাগত প্রভাব ও ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসার পর চীনের প্রতিশ্রুতিশীল এআই মডেল নির্মাতা কোম্পানি জেডডটএআই-তে যোগ দিয়েছেন দেশটির প্রখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ইউকি চেন।
এআই-সহায়তায় পরিচালিত সাইবার হামলা ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যেই চেনের এই নতুন পদে নিয়োগের খবর এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে চীনা সংবাদামাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
সম্প্রতি চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট টেনসেন্ট হোল্ডিংস ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের টেক কোম্পানি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ক্ষেত্রে অপরিচিত সাইটে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের ঘটনা সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নতুন যাত্রার কথা জানিয়ে এক পোস্টে চেন লিখেছেন, “নতুন যাত্রা, নতুন মিশন! ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের শক্তি কাজে লাগিয়ে একটি নিরাপদ সাইবার জগৎ তৈরিতে অবদান রাখার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত ও কৃতজ্ঞ।”
বিবৃতিতে জেডডটএআই বলেছে, অনলাইনে ‘গুহে’ নামে পরিচিত ইউকি চেন সম্প্রতি কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ ‘জিএলএম’ মডেল ব্যবহার করে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ২৩টি সাইবার ত্রুটি উন্মোচনে সাহায্য করেছেন। মার্কিন কোম্পানিটি এরইমধ্যে এসব ত্রুটির স্বীকৃতিও দিয়েছে।
“সাইবার ত্রুটি নিয়ে চেনের কয়েক দশকের গবেষণা জিএলএম-এর সাহায্যে একটি নিরাপদ সাইবার জগৎ গঠনে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।”
তবে এ ২৩টি ত্রুটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা ঠিক কতটা ছিল বা এআই মডেলটির অবদান কতটুকু সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি জেডডটএআই।
চীনের ‘হোয়াইট হ্যাট’ হ্যাকারদের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত ইউকি চেনের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সিস্টেমের সাইবার ত্রুটি অনুসন্ধানে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্বতন্ত্র বা স্বাধীন গবেষক হিসেবে কাজ শুরুর আগে তিনি চীনের বড় অ্যান্টিভাইরাস ও সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী কোম্পানি ‘কিহু ৩৬০’ -এর সাইবার ত্রুটি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিশ্বের নীতিবান বা ‘হোয়াইট-হ্যাট’ হ্যাকার সম্প্রদায়ের অংশ, যারা সফটওয়্যারের নানা ত্রুটি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করে তা নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কাছে রিপোর্ট করেন, যেন তারা এসব ত্রুটি সংশোধন করে সফটওয়্যার নিরাপদ রাখতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলের মতো জেডডটএআইয়ের তৈরি ‘জিএলএম’ মডেলটিও সাইবার ত্রুটি শনাক্তকরণ ও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রমেই যখন শক্তিশালী হয়ে উঠছে তখনই ইউকি চেনকে দলে ভেড়ালো বেইজিংভিত্তিক এই কোম্পানি।
অগাস্টে কোম্পানিটি দাবি করেছিল, তাদের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘জিএলএম-৫.৩’ সাইবার ত্রুটি অনুসন্ধানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও এটা তাদের আগের সংস্করণ ‘জিএলএম-৫.২’-এর চেয়ে শক্তিশালী।
গেল মাসে মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক বলেছিল, জেডডটএআইয়ের ‘জিএলএম-৫.৩’ মডেলটিতে তাদের নিজেদের বিতর্কিত ‘ক্লড মিথোস’ মডেলের মতো একই ধরনের সাইবার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা রয়েছে। যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার হামলা চালানোর মতো সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত।
অ্যানথ্রপিকের সেই প্রতিবেদনটি দেখার পরই সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে চেন বলেছিলেন, তিনি নিজের গবেষণায় সহায়তার জন্য এখন থেকে ‘জিএলএম-৫.৩’ ব্যবহার শুরু করছেন।
মার্কিন সরকারের এক প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওপেন-ওয়েট মডেলগুলোর মধ্যে ‘জিএলএম-৫.৩’-কে সবচেয়ে সক্ষম হিসেবে রেটিং দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, সাইবার সক্ষমতার বিচারে মডেলটি মার্কিন ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তির চেয়ে এখনও প্রায় চার মাস পিছিয়ে রয়েছে।
ফ্রন্টিয়ার এআই থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি ঠেকাতে এখন ক্রমেই মনোযোগ বাড়াচ্ছে চীনের এআই শিল্প। টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্স গেল সপ্তাহে এআই নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ এক নতুন বিভাগ খোলার ঘোষণা দিয়েছে।
এ ছাড়া, গেল মাসে ওয়াশিংটন সম্মেলনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক ‘এআই নিরাপত্তা সংলাপ’ শুরুর ব্যাপারে একমত হয়েছে।
এ বছরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হতে যাওয়া বাকি দুটি বৈঠকেও এআই ও এর নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
সংগৃহীত নমুনার মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনটি প্রায় দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ বছরের পুরনো, আর সবচেয়ে সাম্প্রতিক নমুনাটির বয়স প্রায় ২৭ হাজার বছর।
প্রধান বাজারগুলোতে মেমরি চিপের আকাশচুম্বী দামের কারণে ডিভাইসের চাহিদায় ধস নামায় এর প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির আয়ে।
“আমি পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো একটি এলাকায় ডেটা সেন্টার নিয়ে তীব্র সমালোচনা থাকলেও আর্থিক সমঝোতা হলে সেটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।”
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় যখন স্যাম আল্টম্যানের বোনের বয়স ছিল ৩ বছর ও স্যামের ১২ বছর।