হোমপেজ লোড হচ্ছে…
নিউজরুমে শোক আছে, শূন্যতা আছে। কিন্তু থেমে নেই কাজ। বরং তাকে হারানোর পর সহকর্মীরা নতুন করে চিনছেন নিজেদের। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে নিয়ে সহকর্মী আরশী ফাতিহা কাজীর অনুভূতি।
আরশী ফাতিহা কাজী

একজন মানুষ কতটা প্রাসঙ্গিক, কতটা গুরুত্বপূর্ণ হলে এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও তাকে নিয়ে আলোচনা থামে না।
সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই তার মুখ। একের পর এক স্মৃতিচারণ করে চলেছেন তার সহকর্মী, পরিচিতজন আর তার হাতে গড়ে ওঠা সাংবাদিকেরা। কারও জীবনে তার অবদান, তার বলে যাওয়া কোনো কথা যা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে, কিংবা তার জীবনাদর্শ—সবই ভেসে আসছে নিউজফিডে।
এর মধ্যেও যারা এক লাইন শোক জানিয়ে পরের লাইনে একটি ‘কিন্তু’ জুড়ে দিয়ে তাকে নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না, তাদের প্রতি কেবল করুণা হয়।
তিনি বেঁচে থাকতে সামনে এসে কথা বলার সাহসটুকু যাদের ছিল না, আজ তার নামে দুকলম লেখার এত তাগিদ কেন?
জীবিত একজন মানুষকে ঈর্ষা করা এক জিনিস। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরও যদি তার নাম করে নিন্দা করতে ইচ্ছে করে, তাহলে এটি অসুস্থতার লক্ষণ। তার চিকিৎসা প্রয়োজন।
কারণ, যিনি চলে গেছেন, তিনি একটি বর্ণাঢ্য, কর্মময় জীবন পরিপূর্ণভাবে যাপন করে গেছেন। রেখে গেছেন অজস্র গুণগ্রাহী, শিষ্য ও অনুরাগী। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, তার হাতে গড়ে ওঠা মানুষগুলো আজও কাজ করে যাচ্ছেন। আর কেউ যদি তার রেখে যাওয়া আলোর পাশে দাঁড়িয়ে শুধু তার নামটুকু নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে চান, আমি বলব, তার নিজের চরকায় তেল দেওয়া উচিত।
আর যারা ভাবছেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী চলে যাওয়ার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কী হবে! তাদের জন্য আমাদের গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতাটুকু বলি।
গত শুক্রবার লন্ডনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে একটি হাসপাতালে চিরনিদ্রায় চলে গেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বাংলাদেশে তখন সন্ধ্যা ৭টার কিছু বেশি।
খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যে সহকর্মীরা সকালের কাজ সেরে চলে গিয়েছিলেন, তারা একে একে ফিরে এলেন। কেউ তাদের ডাকেনি, তবুও তারা কাজে যোগ দিলেন।
কারণ আমরা জানতাম, কত বড় দুঃসংবাদ এটি। এর সঙ্গে আরও কত খবর, কত দায়িত্ব, কত কঠিন মুহূর্ত আমাদের সামনে আসতে যাচ্ছে। সেগুলো সামলাতে আমাদের মানসিকভাবে এবং কাজের জায়গায় একসঙ্গে থাকতে হবে।
আমরা একা এই শোক সামলাতে পারছিলাম না।
সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।
<div class="paragraphs"><p>সহকর্মীদের সঙ্গে তৌফিক ইমরোজ খালিদী।</p></div> আমার এমন সহকর্মী আছেন, যিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতেও কাজে যোগ দিয়েছেন। আমরা শুধু ছোট্ট করে বলেছি, "ইট ওয়াজ সাপোজড টু বি ইউর ডে অফ।"
উত্তর এসেছে, “জি।”
এরপর আমরা আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি, তিনিও কিছু বলেননি।
কারণটা আমাদের সবারই জানা।
আমরা এই কটা দিন নিজেদের আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। তার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সকাল আটটায় শিফট শুরু করে রাত আটটা পর্যন্ত টানা কাজ করছেন অনেকে। কেউ তাদের বাধ্য করেনি।
আমরা এই শোক থেকে বের হতে পারছি না। হয়তো বের হতে চাইও না।
আমরা সবাই সবসময় ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু হয়তো কোথাও একটু ঢিলেমি এসেছে কখনও, কোনো জায়গায় সামান্য কমতি হয়েছে—পেছনে তো আমাদের একজন মানুষ ছিলেন। তিনি এসে বলে দিতেন, “এটা এভাবে করা দরকার ছিল।”
কিন্তু সেই মানুষটি চলে যাওয়ার পর থেকে দেখছি কাউকে কিছু বলতে হচ্ছে না।
প্রত্যেকে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সবচেয়ে ভালো কাজটি করার চেষ্টা করছেন।
আমরা একে অন্যকে দেখে বিস্মিত হচ্ছি।
আমরা নিজেরাই নিজেদের চিনতে পারছি না।
জানেন, এটা কখন হয়?
যখন একজন মানুষ তার কাজকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখে না। যখন সে জানে, এই কাজটির ওপর তার কর্তৃত্ব আছে, এই দায়িত্বটি তার নিজের, এবং শেষ পর্যন্ত তাকেই এটি সম্পন্ন করতে হবে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী আমাদের সেই জায়গাটিই দিয়েছিলেন—‘অথরিটি’।
আজ তার চলে যাওয়ায় আমাদের জীবনে যে অমানিশা নেমে এসেছে, সেই অন্ধকার থেকে বের হওয়ার পথটিও যেন তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের দেখিয়ে গেছেন।
আমরা যেন কে আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারি, সেটিই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চেষ্টা।
তার নাম, তার কাজ, তার প্রতিষ্ঠান এবং তার রেখে যাওয়া মানদণ্ড—কোনোটারই যেন অসম্মান না হয়।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী নেই, কিন্তু তিনি আমাদের মধ্যে যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে গেছেন, তা আছে। তিনি যে মানুষগুলো তৈরি করেছেন, তারা আছেন। তার শেখানো কাজও আছে।
আর সেই কাজ চলবে।
হয়তো একজন মানুষের সবচেয়ে বড় প্রাসঙ্গিকতা এটিই—চলে যাওয়ার পরও তিনি তার কাজ, মানুষ ও স্মৃতির মধ্যে থেকে যান।
সবচেয়ে বেশি, তার রেখে যাওয়া আলোয়।
আরশী ফাতিহা কাজী: ের কর্মী।
জীবন বাজি রেখে ভিটেমাটি বেচে বিদেশে গিয়ে কেন অদক্ষ শ্রমিকদের মৃত্যুদণ্ডের মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে?
প্রিন্ট মিডিয়ার নিউজরুমে বসে দেখা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রভাব থেকে শুরু করে ডেটা জার্নালিজমের নবায়ন—তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে নিয়ে সাবেক সহকর্মী পলাশ দত্তের স্মৃতিচারণ।
ভারতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সিম কার্ডের নামেই মিলবে কলারের পরিচয়। থার্ড পার্টি অ্যাপ বা টাকা খরচ ছাড়া এমন মৌলিক সাইবার নিরাপত্তা সুবিধা বাংলাদেশের সাধারণ গ্রাহকদের দিতে টেলিকম অপারেটর ও বিটিআরসি কি উদ্যোগী হতে পারে না?
যে প্রবাসীদের আয়ে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, সংকটের দিনে ন্যূনতম আইনি সহায়তা না দিয়ে রাষ্ট্র কি নিজের প্রাথমিক দায়িত্ব এড়াতে পারে?