হোমপেজ লোড হচ্ছে…
প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশই বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় এখন তারা এআই টুলের ওপর বেশি ভরসা পান।
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। আর, এ প্রযুক্তি থেকে অর্থ আয়ের বিষয়টি কেবল ব্যবহারকারীদের সাবস্ক্রিপশন ফি দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে না।
গুগল, টেমাসেক ও বেইন অ্যান্ড কোম্পানির যৌথভাবে প্রকাশ পাওয়া বার্ষিক ‘ই-কোনমি এসইএ’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিন বছরেরও কম সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখে।
এ সংখ্যা অঞ্চলটির কর্মক্ষম জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশের সমান, যেখানে এআই গ্রহণের গতি মোবাইল ইন্টারনেট প্রসারের চেয়ে চারগুণেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
বিপুল ব্যবহারের পাশাপাশি কেবল এক থেকে দুই শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত কাজে এআইয়ের জন্য সাবস্ক্রিপশন কেনেন, যা ব্যবহার ও সরাসরি ভোক্তা খরচের মধ্যকার বড় পার্থক্য তুলে ধরেছে।
‘বেইন অ্যান্ড কোম্পানি’র পার্টনার ফ্লোরিয়ান হোপ বলেছেন, সরাসরি ফি না পেলেও অনলাইন শপিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন পর্যন্ত এআইয়ের বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে মুনাফা তৈরির অন্যান্য পথ খুঁজে নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি।
ই-কমার্স সাইটগুলোতে কেনাকাটার হার বাড়াতে ও গ্রাহকদের নিত্যদিনের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা সামলাতে এআই ব্যবহার করছে কোম্পানিগুলো। ফলে কর্মীরা আরও জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ ছাড়া, এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটার সময় পরোক্ষভাবেও ব্যবহারকারীরা এ প্রযুক্তির দাম পরিশোধ করছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, এ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির ‘গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভ্যালু’ বা জিএমভি ১৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।
প্রযুক্তির প্রতি এআই ব্যবহারের এই ব্যাপক উৎসাহের পেছনে ব্যবহারকারীদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রবণতাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন হোপ।
তিনি বলেছেন, অঞ্চলের গ্রাহকরা এআইয়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘ব্যবহারিক আশাবাদ’ দেখাচ্ছেন ও এর বাস্তব সুবিধাগুলো লুফে নিচ্ছেন।
জনসংখ্যা প্রতি ব্যবহারের বিচারে বিশ্বের প্রধান প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম সক্রিয় ব্যবহারকারী এ অঞ্চলের মানুষ।
হোপ বলেছেন, “এখানকার মানুষরা বেশ পরীক্ষাপ্রবণ।”
একক বাজার হিসেবে এআই ব্যবহারে সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শুরুর দিকের অন্যতম অগ্রগামী দেশ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রযুক্তির প্রতি এ ইতিবাচক মনোভাব এখন এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সেরা দাম খুঁজে বের করা ও তাদের হয়ে কেনাকাটা সম্পন্নের মতো কাজে ‘এআই এজেন্ট’কে দায়িত্ব দিতে রাজি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশই বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় এখন তারা এআই টুলের ওপর বেশি ভরসা পান।
দ্রুত প্রসারের পরও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষ এখনও বেশ কম এআই ব্যবহার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করলে জনপ্রতি ব্যবহারের হার এখানে কেবল ১০ শতাংশ।
তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই ব্যবহারের সুফল এখন স্পষ্ট ও বাস্তব। প্রায় ৬৯ শতাংশ ক্রেতা ইলেকট্রনিক্সের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল পণ্য কেনাকাটায় তুলনার জন্য এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, প্রাথমিক কিছু সমীক্ষায় দেখা গেছে, এআইয়ের ব্যবহারে ব্যবসায়ের রূপান্তর হার বছরে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে ও গ্রাহকদের গড় অর্ডারের অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘শপি’-এর উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদন বলছে, কোম্পানিটি তাদের গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রশ্নোত্তর এখন এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে পরিচালনা করছে। ফলে গ্রাহক প্রতি যোগাযোগের খরচ বার্ষিক ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অনলাইন মিডিয়ার ক্ষেত্রে হোপ বলেছেন, এআইচালিত বিজ্ঞাপন ও উন্নত টার্গেটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ক্লিক-থ্রু রেট এবং কেনাকাটার রূপান্তরে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে।
এআইয়ের সুফল কেবল অনলাইন কেনাকাটার মধ্যেই আটকে নেই। ট্রিপ প্ল্যান তৈরি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনকে আরও কার্যকর করা এবং রাইড-শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি সার্ভিসে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে বুকিং নেওয়ার কাজেও সাহায্য করছে এই প্রযুক্তি।
এ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনলাইন ট্রাভেল বাজারের জিএমভি ১০ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও স্ট্রিমসহ অনলাইন মিডিয়ার রাজস্ব ২২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার এবং রাইড-শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি খাতের জিএমভি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
পুরনো অমীমাংসিত এ মামলা সমাধানে গোয়েন্দাদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে কেবল ডিএনএ প্রযুক্তি একা কাজ করছে না, এর সঙ্গে রয়েছে এআইও।
এক বছর আগেও এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়নি। এখন আক্রমণকারী ও প্রতিরোধকারী উভয় পক্ষই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই ফিচার ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড’ নয়। ব্যবহারকারী কোনো আইনি ঝামেলায় জড়ালে বা কর্মক্ষেত্রের আইনি বাধ্যবাধকতা এড়ানোর কোনো মাধ্যমও নয়।
পরীক্ষায় দুই অংশকেই সফলভাবে ধরে ফেলতে পারলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির অগ্রগতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।