হোমপেজ লোড হচ্ছে…

১.
ঢাকায় নাকি দিনে গড়ে ৪৪ টি তালাকের ঘটনা ঘটছে। এই তথ্য এই অক্টোবরে প্রকাশিত একটি পত্রিকা থেকে পাওয়া। সংবাদটি পরিবেশন করতে গিয়ে ওই পত্রিকার শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘ঢাকায় দিনে ভাঙছে ৪৪ সংসার’।
ভাষা নিরীহ ও নির্বিষ হতে পারে; হতে পারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিচারপ্রবণ এবং সালিসি মনোভঙ্গিরও। ভাষা হয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ধারক-বাহকও। এবং এটি কেবল একটি সংবাদপত্রের ভাষা নয়, খুঁজলে এমন আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব।
সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত খবরের ভাষাও সবসময় নিরপেক্ষ ও নির্বিষ নয়। বরং আজকের দুনিয়ায় সংবাদমাধ্যমই হলো সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় দেখানো সেই ‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র’ বা মগজ ধোলাইয়ের মেশিন।
মগজ ধোলাইয়ের এই আধুনিক মেশিন সত্যজিতের হীরক রাজার মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্রের চেয়ে হাজার গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। কারণ এই যন্ত্রের কারসাজি বোঝা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, বিশাল ডিগ্রিধারী বহু পণ্ডিতের পক্ষেও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
<div class="paragraphs"><p>সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় দেখানো সেই মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্রের স্থান এখন সংবাদমাধ্যমের দখলে। স্ক্রিনশট: হীরক রাজার দেশে</p></div> বাতাসে মিশে থাকা গন্ধরাজ ফুলের অদৃশ্য সুবাস বা ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধ মগজের ভেতরে ঢুকে মনের মধ্যে ভালোলাগার মিষ্টি অনুরণন কিংবা বিবমিষা জাগিয়ে তুলতে পারে। ঠিক এমনই অদৃশ্যভাবে বিশ্বব্যাপী কাজ করে গণমাধ্যমের সম্মতি উৎপাদনের কারসাজি।
কোনো একটি সংবাদ বা কনটেন্ট বা আধেয়কে কীভাবে, কোন কায়দায়, কত রকম ছাঁকন পদ্ধতির ভেতর দিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনে বরফের ধারালো ছুরি বা বিকল বন্দুক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়—তা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন চিন্তাবিদ চমস্কি ও হারমান।
এক্ষেত্রে গণমাধ্যম প্রেমিকের মতো আচরণ করে। মানে যেটিকে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা যায়, ‘তুমি অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলে’।
কেতাবি ভাষায় গণমাধ্যমের এহেন আচরণকে তাত্ত্বিকেরা নাম দিয়েছেন ‘এজেন্ডা সেটিং থিওরি’।
‘ফ্রেমিং’ এবং ‘প্রাইমিং’-এর ভেতর দিয়ে গণমাধ্যম মানুষের মন ও মগজকে এমন এক জায়গায় নিয়ে উপনীত করে, যেখানে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে’—শুনলেই দর্শক-পাঠকের মন কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে কেবল ‘আমি কলা খাই না’ কথাটিই সবার আগে ভাবতে শুরু করে।
অর্থাৎ মিডিয়া প্রকাশ্যে কোনো ব্যক্তি বা মতাদর্শের পক্ষ বা বিপক্ষ না নিয়েও কারো পক্ষে বা বিপক্ষে দর্শক-পাঠকের মগজকে ক্রমাগত ধোলাই করতে থাকে এবং বিষয়টির পক্ষে বা বিপক্ষে জনমত তৈরি করতে থাকে। সারা দুনিয়ায় এই নিয়ে ভুরি ভুরি গবেষণা রয়েছে।
যেমন ‘টেরোরিস্ট’ কথাটা শুনলেই শব্দটির আগে অবচেতনভাবে পশ্চিমা শিক্ষিত শহুরে সমাজের মাথায় আসে ‘মুসলিম টেরোরিস্ট’ বা ‘কমিউনিস্ট টেরোরিস্ট’।
কিন্তু কখনো ভেবেছেন, ‘ক্যাপিটালিস্ট টেরোরিস্ট’ বা ‘ইহুদি টেরোরিস্ট’ বা ‘বৌদ্ধ টেরোরিস্ট’ কিংবা ‘হিন্দু টেরোরিস্ট’ শব্দগুলো ভাবনার চৌহদ্দির মধ্যেও আসে না কেন?
গণমাধ্যম খুব সূক্ষ্মভাবে সংবাদ, কার্টুন, কৌতুক, হাস্যরস, সিনেমা ও নাটকের ভেতর দিয়ে ফ্রেমিং ও প্রাইমিং-এর কারসাজিটা করে থাকে।
তাই, ‘কমিউনিস্ট সন্ত্রাসী’ শব্দ দুটিকে আমাদের মগজ পাশাপাশি বসিয়ে দিতে দ্বিধা করে না। অথচ ‘ক্যাপিটালিস্ট সন্ত্রাসী’ শব্দটা চিন্তার মানচিত্রেই আসে না; যার ফলে তা আমাদের মুখেও আসে না।
এই যে খুব সহজাতভাবেই একটা ধারণাকে আরেকটার পাশে টেনে নিয়ে আসা বা বসিয়ে দেওয়া, কিংবা একটা দেখলেই আরেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনে চলে আসা—বিষয়টা মোটেও অত সহজ নয়।
এটা ঘটায় আমাদের অবচেতন মন। কারণ আমাদের সমাজ তথা সমাজের মিডিয়া মনোজগতে তথ্য বা বয়ানগুলোকে ক্রমাগত ভাঙা টেপ রেকর্ডারের মতো বাজিয়ে এই ছাঁচ তৈরি করে। অর্থাৎ সচেতনভাবে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির বয়ান গণমাধ্যম সমাজের শিরায় শিরায় ইনজেকশনের মতো প্রবেশ করাতে থাকে। এই প্রক্রিয়া স্বল্প বা দীর্ঘ সময় ধরে জারি রেখে দর্শক-পাঠক তথা জনতার চিন্তাকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে নিয়ে আসা হয়।
গোয়েবলসীয় তত্ত্বটা মনে আছে তো? এমনকি কোনো ডাহা মিথ্যাও (বিগ লাই) যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিনিয়ত ভাঙা টেপ রেকর্ডারের মতো পাবলিকের কানের কাছে বাজানো হতে থাকে, তবে একপর্যায়ে মানুষ সেটিকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করবে।
ভাঙা টেপ রেকর্ডার বাজানোর পাশাপাশি পাবলিককে যদি প্রকৃত সত্যটা কোনোভাবেই আর জানতে দেওয়া না যায়, ব্যাস, তাহলেই কেল্লা ফতে! ‘আসল সত্য’ দাবি করে আর কোনো সত্যই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এই হলো গোয়েবলসীয় কায়দায় অভীষ্ট সত্য নির্মাণের নীলনকশা।
যেখানে ডাহা মিথ্যাকেই সত্য বলে গিলিয়ে দেওয়া যায়, সেখানে একটি অনুমিত সত্যকে মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্য ওই অর্থে কোনো কারসাজিরই প্রয়োজন নেই। বুঝে বা না বুঝেই শুধু ভাঙা টেপ রেকর্ডারটা বাজিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ করে এই পোস্ট-ট্রুথ বা উত্তর-সত্যের যুগে সত্য নিজেই নিজেকে নিয়ে এক গোলকধাঁধায় পড়ে গেছে।
এই যুগে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ নির্ভর সত্যের চেয়েও রাজনৈতিক পরিমণ্ডল, পারিপার্শ্বিক আবহ ও উদ্দেশ্যই এখন ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ খেলার মতো ফাইফরমাশমাফিক ‘সত্য বয়ান’ রচনার বাজার রমরমা করে তুলেছে।
আজকের মূল আলাপটা ‘তালাক’-এর ঘটনা এবং ঘটনাটিকে ঘিরে পরিবেশিত সংবাদ নিয়ে।
মূল ঘটনা এবং ঘটনাকে ঘিরে পরিবেশিত সংবাদ—দুটো যে সবসময় একই হবে, একুশ শতকের এই মিডিয়া-শাসিত সমাজে তা আর নিশ্চিত সত্য নয়। সত্য-অসত্যের নির্মাণে মিডিয়ার এই চক্কর না বুঝলে আমার আলাপের মূল উদ্দেশ্যটাই মাঠে মারা যাবে। কারণ মিডিয়া খবরে শুধু তথ্য দেয় না, দৃষ্টিভঙ্গিও ফেরি করে বেড়ায়।
২.
বিবাহ একটি সামাজিক চুক্তি। দুই পক্ষের যে কারো এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে।
বিবাহিত জীবনের কোনো এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন আর একসঙ্গে থাকার মতো বাস্তবতা থাকে না, তখন তারা তালাকের আশ্রয় নেন। অর্থাৎ বিবাহের চুক্তি বাতিল করে দেন।
বিবাহের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়াকেই বলা হয় ‘তালাক’। ‘তালাক’ একটি অপেক্ষাকৃত নৈর্ব্যক্তিক ও নিরাবেগ কেজো শব্দ।
কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে তালাকের খবর পরিবেশন করতে গেলেই এই নৈর্ব্যক্তিক শব্দটিকে আবেগের রঙ মেখে ‘ভাঙন’ বলে তকমা দেওয়া হয়। একটি নৈর্ব্যক্তিক শব্দের গায়ে ব্যক্তি ও সমাজের আবেগ চাপিয়ে দেওয়া কি সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের কাজ?
বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে ১৯২৬ সালে মানুষের যে মনোভাব ছিল, ২০২৬ সালে এসে তা আর একই রকম থাকতে পারে না।
বাস্তবতা পাল্টে গেছে। তবু কেন গণমাধ্যমগুলো তালাকের ঘটনাকে একপেশেভাবে ‘ভাঙন’ হিসেবে চিত্রিত করে? শব্দের গায়ে কেন এঁটে দেওয়া হয় সমাজের সালিসি দৃষ্টিভঙ্গি?
যারা তালাক নেন, তারা কি সবাই ‘ভাঙন’ বা অপরাধবোধ দিয়ে তাড়িত হন? নিশ্চয়ই নয়।
<div class="paragraphs"><p>তালাকের দুটি ভিন্ন পথে হেঁটে দুজন মানুষই খুঁজে পেতে পারে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা। প্রতীকী ছবি</p></div> ব্যক্তিগত আলাপে এমন অনেক নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি—তালাককে তারা দেখেছেন তাদের ‘মুক্তি’ হিসেবে। ধারণা করি, আপনারা অনেকে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
যেকোনো মুক্তিরই একটা মূল্য থাকে। যেমন পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হতে গিয়ে বাংলাদেশকে দিতে হয়েছে এক নদী রক্ত। ব্রিটিশ উপনিবেশের থাবা থেকে মুক্তি পেতে আমেরিকাকেও রক্ত ঝরাতে হয়েছে।
বিয়ে যখন জোয়ালের মতো ভার হয়ে কাঁধে চেপে বসে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর মূল্য হচ্ছে—সমাজের তির্যক দৃষ্টি, লোকনিন্দা, সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিজেকে আবার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড় করানোর এক দীর্ঘ সংগ্রাম। তবু তালাক কারো কারো কাছে মুক্তি হয়েই আসে।
কই, সংবাদপত্রের পরিবেশিত সংবাদগুলোতে তো তালাককে ‘মুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় না? কেন করা হয় না?
তালাককে সংবাদ শিরোনামে যদি ‘মুক্তি’ হিসেবে লেখা অসমীচীন হয়, তাহলে ‘ভাঙন’ হিসেবে লেখা কেন অসমীচীন হবে না, মাননীয় আদালত?
এই লেখার শুরুর দিকেই গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছি। গণমাধ্যমে যে ভাষায়, যত বড় হরফে কিংবা যে রঙে সংবাদ পরিবেশন করা হয়, তার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়।
সংবাদের ভেতরে ব্যবহৃত শব্দাবলীর মাধ্যমে পাঠক-দর্শকের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রিত করা হয়—খবরটিকে তারা ঠিক কীভাবে মূল্যায়ন করবে।
পাঠকের নিজের অজান্তেই তাদের মনের গভীরে প্রভাব ফেলে গণমাধ্যমের বাছাই করা এসব শব্দবন্ধ।
তালাক যদি ‘ভাঙন’ হয়, তবে সেই বাবা-মায়ের সন্তানরা কি ‘ভাঙা পরিবারের’ সন্তান?
না গো, মহাজন! ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষ হিসেবে এইভাবে ভাবাটাই আজকের দুনিয়ায় রীতিমতো অপরাধ।
‘ভাঙা পরিবার’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার এই মনস্তত্ত্ব পুরোপুরি সেকেলে ও ভ্রান্ত; কারণ এটি একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে কলঙ্কজনক হিসেবে চিহ্নিত করে।
তালাককে ‘ভাঙন’ বললে মনে হয় যেন এটি একটি ব্যর্থতার গল্প, যেখানে জড়িয়ে রয়েছে একরাশ লজ্জা। ‘ভাঙন’ শব্দটি প্রয়োগ করে মানুষের মুক্তির ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে খাটো ও অসম্মান করা হয়।
তালাককে এমন বিচারপ্রবণ শব্দে বাঁধাই করার অর্থ হলো—মুক্তিকামী নারী ও পুরুষকে অসুখী, তিক্ত ও দমবন্ধ বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতর জোরপূর্বক আজীবন বন্দি থাকার মানসিক চাপ প্রয়োগ করা।
বাবা-মায়ের বিষাক্ত, অসম্মানজনক ও কলহপূর্ণ দাম্পত্যের ভেতরে বেড়ে ওঠার চেয়ে একক অভিভাবকত্বে (সিঙ্গেল প্যারেন্টিং) বেড়ে ওঠা শিশুর জন্য এবং সমাজের জন্য অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এর ফলে দুটি মানুষই নতুন করে জীবন শুরু করার দ্বিতীয় সুযোগ পায়।
জীবন তো একবারই বাঁচার জন্য। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে বাংলার নারীরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির নিগড়ে বন্দি। তার পোশাক, চলন, কর্মঘণ্টা, দিনে-রাতে বাইরে থাকার সময়সীমা, এমনকি তার বিয়ে কিংবা তালাক—সবকিছুই নির্ধারিত হয় পুরুষের মর্জির নিক্তিতে।
একতরফা সমাজব্যবস্থার এই নিগড়ে নারীকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা তার ওপর এক চরম অবিচার।
‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমায় নায়িকার বাবা কোনোভাবেই মেয়ের পছন্দের মানুষের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। শেষমেশ সত্য অনুধাবন করে ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কন্যার হাত ছেড়ে দিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘যা সিমরান, যা! জি লে আপনি জিন্দেগি’।
তালাকের পর এ দেশে নারীর জীবন কতটা বৈরী ও কণ্টকাকীর্ণ হয়, তা কি আমরা অনুধাবন করি? এমনিতেই যেখানে তাকে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হয়, সেখানে সংবাদের পাতায় ‘ভাঙন’ নামের সালিসি ভাষা জুড়ে দিয়ে সেই লড়াইকে কেন আরও কঠিন করে তোলেন?
মেয়েদের জীবনে চাপিয়ে দেওয়া পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির এই অদৃশ্য শৃঙ্খল আর কতকাল টানতে হবে?
সিমরানদের জীবন তো একটাই। তাদের শেকলটা এবার খুলে দিন, তারা বেছে নিক বিবাহবন্ধন অথবা বিবাহবিচ্ছেদ।
সিমরানের মতোই অশ্রুসজল চোখে আজও অনেক নারী মুক্তি চেয়ে আকুল আকুতি জানাচ্ছেন, ‘প্লিজ, আমাকে যেতে দিন!’
আমিও বলি, মৃত্যুর আগে সব সিমরানকে নির্ভয়ে নিজের মতো করে একটু শ্বাস নিয়ে বাঁচার স্বাদ পেতে দিন। তা না হলে—সিমরান কাব জিয়েগি আপনি জিন্দেগি?
আফরোজা সোমা: কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও শিক্ষক।
‘আমি একা একটু ফেললে কী আর হবে’—এই একটি অজুহাতেই কি আমাদের শহরগুলো আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে?
ব্যালটে স্বৈরাচারকে হঠানো সহজ হলেও আন্দোলনের ঐক্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা কঠিন। সার্বিয়া ও ব্রাজিলের বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা।
ডেঙ্গু, হাম আর প্রশাসনিক ব্যর্থতায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হলেও দায়ভার চাপানো হচ্ছে নাগরিকদের ঘাড়ে; মশা মারার লোকদেখানো ধোঁয়া নয়,প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহি ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিরোধ।
একদিকে আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে ভূরাজনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বোঝা—ইউরোপের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কি তবে ভেঙে পড়ছে?