হোমপেজ লোড হচ্ছে…

২২ গজে সাদমান ইসলামের ব্যাটিং আর সংবাদ সম্মেলনে তার কথোপকথন, দুটিকে এক বিন্দুতে মেলানো যায় সহজেই। জাঁকালো কিছুর ব্যাপার কোথাও নেই। তার ব্যাটিং দেখতে খুব নান্দনিক বা আকর্ষণীয় নয়। তবে কখনও কখনও বেশ কার্যকর। তার কথাও খুব চটকদার নয়, আলোচনার ঝড় তোলে না। তবে কখনও কখনও ছোট ছোট বাক্যে তিনি ছাপটুকু রেখে যান। এই মিরপুর টেস্টে যেমন দেখা গেল।
প্রথম দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ব্যাটসম্যান পরদিন দ্রুতই পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকের দেখা। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি। আগের দুটি শতরানই ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, যারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। কিন্তু এমন সেঞ্চুরির দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তার কণ্ঠে বারবার ফৃটে উঠল হতাশা, শোনালেন তিনি ভবিষ্যতে ভুল শোধরানোর আশা। ঘুরেফিরে বারবার বললেন আক্ষেপের কথাই। কারণ, এমন ধস নেমেছে দলের ব্যাটিংয়ে, সেখানে চাপা পড়েছে তার সেই ইনিংস।
সাদমানের বিদায় দিয়েই শুরু হয়েছিল সেই ধসের। দায়টা তাই নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন তিনি। বারবারই বললেন, আরও বড় করা উচিত ছিল তার ইনিংস।
সাদমানের ইনিংসটি থামে ১০৫ রানে। এরপর লিটন কুমার দাস এক প্রান্তে থাকলেও অন্য প্রান্তে মুখ বদলেছে বারবার। শেষ ৭ উইকেটের পতন হয়েছে কেবল ৫১ রানের মধ্যে। চারশর আশায় দিন শুরু করা দল গুটিয়ে গেছে ২৭২ রানে।
সাদমান বললেন, তার আউটই দলকে সর্বনাশের পথে তুলে দিয়েছে। সেঞ্চুরিকে দেড়শ বা দুইশকে রূপ না দিতে পারার যে ব্যর্থতা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের, সেটি কাটিয়ে ওঠার আশাবাদও শোনালেন।
“সকালবেলা আমাদের দ্রুত উইকেট পড়েছে। আমি আর লিটন যখন ব্যাটিং করছিলাম, অবশ্যই আমরা বা আমি যদি কিছুক্ষণ খেলতে পারতাম বা আরেকটু বড় করতে পারতাম, হয়তো চিত্রটা অন্যরকম হতো। ওখান থেকেই ভুল হয়ে গেছে।
“এখানে আমাদের আরও ভালো করা উচিত। কারণ আমরা যদি টপ অর্ডারদের এই স্কোরটা আরও বড়, ১৫০ বা ১৭০ বা ২০০ হয়, তাহলে হয়তো দলের রান ৪৫০, ৫০০ হবে। তো আমাদের ভুল হয়ে গেছে। চেষ্টা থাকবে পরেরবার সুযোগ এলে যত বড় করা যায়।”
সাদমানের বিদায়ের পর অবিশ্বাস্যরকমের বাজে এক শটে উইকেট হারান তাওহিদ হৃদয়। দলের বড় স্কোরের আশা তাতে চোট লাগে জোরেসোরে। তার দিকে অবশ্য আঙুল তুলছেন না সাদমান, বরং আবার নিজেকেই দাঁড় করাচ্ছেন কাঠগড়ায়।
“হৃদয় যে বলটায় আউট হয়েছে, মোটামুটি ওটা হাফ ভলি বলই ছিল। মারার বল ছিল। হৃদয় এসব শট খেলে থাকে, আর এসব শটেই ও রান করে।
হয়তো ওরা ভালো বোলিং করেছে, আমাদেরও কিছু ভুল ছিল। আমি আর লিটন যদি একটা জুটি দিতে পারতাম, তাহলে এই অবস্থা হতো না।”
এখন তিনি সেঞ্চুরিকে আরও বড় করতে না পারায় আফসোস করছেন, কিন্তু এই ম্যাচের আগে হাপিত্যেশ করছিলেন সেঞ্চুরির জন্যই। থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না। ফিফটিকে তিন অঙ্কে নিতে পারছিলেন না। ব্যাপারটি ভাবাচ্ছিল তাকে। সেটির সমাধানও বের করার চেষ্টা করেছেন নিজে, কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচদের সঙ্গেও।
“গত কিছুদিন একটু অন-অফ ছিলাম। কিছু ইনিংস বড় করতে পারিনি। ওটা নিয়ে সবশেষ কিছুদিন কাজ করছি, ফিটনেস নিয়েও কাজ করছি। চিন্তা করছিলাম যে, কেন এই জায়গায় গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছি। গত কিছুদিন এটা নিয়ে অনেক কাজ করছি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, ফিটনেস ইস্যু হতে পারে। এজন্য ফিটনেস নিয়ে ভালো কাজ করছি।
হয়তো ব্যাটিংয়েও ঘাটতি ছিল। এটা নিয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলছি। আশরাফুল ভাই ছিলেন, সালাহ উদ্দীন স্যার ছিলেন। উনারাও বলেছেন যে, ‘কিছু কাজ কর এগুলো নিয়ে, হয়তোবা ভালো সাফল্য আসতে পারে।’ এই তো।”
প্রথম দিনে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান। দিনের খেলা শেষে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বলেছিলেন, গোটা দলই নার্ভাস হয়ে অপেক্ষা করবে তার সেঞ্চুরির। তবে এই ওপেনারের দাবি, তার অনুভূতি এমন কিছু ছিল না।
“তেমন কোনো কিছু কাজ করছিল না (মাথায়), কারণ ক্রিকেটে এরকম আসবেই। ৯৯ রান নিয়ে লোকে কথা বলছিল। কিন্তু আমার মনে এরকম কিছু আসেনি। আমার চিন্তা ছিল পরদিন গিয়ে কীভাবে আরেকটু বড় করে দলের জন্য ভালো খেলা যায়।”
বাংলাদেশকে ২৭২ রানে আটকে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ১ উইকেটে ৯০। সেখান থেকে ৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
সাদমানের আশা, লিড নিতে পারবেন তারা।
“অবশ্যই তো যত লিড নেওয়া যায়, তত আমাদের জন্য ভালো। যেরকম বোলিং হচ্ছে, কালকে যদি আমরা সকাল সকাল দ্রুত উইকেট নিতে পারি, যদি ভালো বল করতে পারি, খুব তাড়াতাড়ি চেষ্টা থাকবে অলআউট করে দেওয়ার।”
টানা খেলার কারণে অনেক শাটলারের মাসল ক্র্যাম্প হয়েছে, একই কারণে পুরুষ এককের ফাইনালে খেলতেই পারেননি সিবগাত উল্লাহ।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে জাপানের বিপক্ষে তৃতীয় কোয়ার্টারে গোল হজম করে পিটার গেরহার্ডের দল।
দারুণ শুরুর পর কিছুটা খেই হারিয়ে এখন বাকি ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কোচিং স্টাফ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা।