হোমপেজ লোড হচ্ছে…
মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের প্রেমের গল্পে বলা হয় ভালোবাসা রূপের চেয়ে মনের সৌন্দর্য ও বোঝাপড়ার ওপর নির্ভরশীল। স্ত্রীর গায়ের রং কালো হলেও ভালোবাসা অকৃত্রিম এবং বিশ্বস্ত।
লেখা:
রেস্টুরেন্টে প্রথমবার তাকে দেখলাম। চোখে চোখ পড়তেই সে চোখ নামিয়ে নিল। ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি। তেমন সাজগোজ ছিল না, অথচ চোখেমুখে কী যে মায়া! মনে হলো, এই মেয়েটিকে কতকাল ধরে চিনি। সেই মায়ার জালে আটকে গিয়ে মনে মনে ঠিক করলাম, এই মেয়েকেই বিয়ে করব।
কিন্তু একটা দ্বিধা ছিল। মেয়েটির গায়ের রং শ্যামলা, আরও স্পষ্ট করে বললে কালো। আমি নিজে ফরসা। সমাজের চেনা সৌন্দর্যবোধ মনে প্রশ্ন তুলল—এই মেয়েটিকে কি আমার সঙ্গে মানাবে?
পরক্ষণেই মনে হলো, গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিচার করব কেন? মানুষটি সৎ কি না, তার মন সুন্দর কি না, আমাকে বুঝতে পারবে কি না—সেটাই তো আসল। রূপ সময়ের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু সুন্দর মনের মূল্য কখনো কমে না।
ফোন নম্বর বিনিময় হলো। এক মাসের মধ্যেই বিয়ে। তারপর সোজা কক্সবাজারে মধুচন্দ্রিমা! অফিসের জিএম স্যার সাত দিনের ছুটি দিয়েছিলেন, অথচ ফিরলাম একুশ দিন পর। স্যার অবশ্য চাকরি খাননি। কারণ, তিনি জানতেন, শফিক একটু বেশিই রোমান্টিক!
জোছনা, জোনাকি পোকা, ভুতুম প্যাঁচা, কুপ পাখি আর একদল উচ্ছল মানুষের গল্প ভালোবাসার প্রথম পরীক্ষা
বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই শুরু হলো বিপত্তি। আমার বউয়ের বাসে উঠলেই বমি পায়! কক্সবাজার যেতে যেতে ১৮ বার বমি করল। কোথায় বউয়ের হাত ধরে বসে থাকব, তা নয়—সারাটা পথ পলিথিন হাতে বসে আছি। এর মধ্যে বাসও নষ্ট হলো।
এত ভোগান্তির মধ্যেও একটা দৃশ্য আজও আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। বমি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে একসময় সে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল। আমি তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবলাম, এই তো আমার মানুষ! যার কাছে পৃথিবীর সব ক্লান্তি ভুলে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা যায়।
সেদিন বুঝেছিলাম, ভালোবাসা মানে শুধু হাত ধরে সমুদ্র দেখা নয়; প্রয়োজনে বমির পলিথিন হাতে নিয়ে সারাটা পথ বসে থাকাও। প্রিয় মানুষের কষ্টকে নিজের করে নেওয়াই ভালোবাসা।
আমার বউ, আমার পৃথিবী
আমার বউ আমাকে শাসন করার চেয়ে আগলে রাখতেই বেশি ভালোবাসে। সময়মতো খেয়েছি কি না, শরীর খারাপ কি না—সবকিছু নিয়ে তার চিন্তা।
তার বিখ্যাত সংলাপ, ‘তুমি না খেলে আমার গলা দিয়ে খাবার নামে না।’
কর্মব্যস্ত দিনের শেষে কেউ যখন এমন করে খোঁজ নেয়, তখন বোঝা যায়, ভালোবাসা আসলে কতটা মায়াময় হতে পারে।
আমি প্রথম লোকমাটা তার মুখে তুলে দিই। সে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। এই ছোট্ট মুহূর্তেই আমার কত আনন্দ!
আমরা কখনো একটা ডিম ভাগ করে খাই। তাকে সব সময় বড় রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে পারি না, দামি শাড়ি-গয়নাও কিনে দিতে পারি না। অথচ তার কোনো অভিযোগ নেই। এক প্লেট ফুচকা, এক প্লেট চটপটি কিংবা রাস্তার পাশের দোকানে এক কাপ চা—এতেই সে খুশি। একদিন বলেছিল, ‘তোমার বুকে মাথা রেখে খোলা আকাশ দেখতে পারলেই আমার সব সুখ।’
কথাটা শুনে বুঝেছিলাম, সুখের জন্য সব সময় অনেক টাকার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন এমন একজন মানুষের, যার কাছে অল্পকেও অনেক মনে হয়।
একটা চুমু, এক আকাশ ভালোবাসা
শনিবার সকালে সে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। আমি ঘুমিয়ে থাকি। বের হওয়ার আগে চুপিচুপি আমার গালে একটা চুমু দিয়ে যায়। কখনো কখনো ঘুমের ভান করে পড়ে থাকি, শুধু তার ভালোবাসাটুকু অনুভব করার জন্য।
একটা চুমুর জন্য যে মানুষ সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারে, তার কাছে ভালোবাসার মূল্য কতখানি, তা সহজেই বোঝা যায়।
সে প্রকাশ্যে খুব একটা ‘আই লাভ ইউ’ বলে না। কিন্তু আচরণে বুঝিয়ে দেয়, আমি তার কতটা আপন। আমার মুখ দেখেই মনের অবস্থা বুঝে ফেলে। বান্ধবীদের কাছে আমার প্রশংসা করে। আমিও গোপনে টাকা জমিয়ে তার জন্য উপহার কিনি। উপহার পেয়ে সে অবাক হওয়ার ভান না করলেও তার চোখের আনন্দ আমার চোখ এড়ায় না।
আমাদের ঝগড়াও হয়, অভিমানও হয়। কিন্তু দিনশেষে আমরা দুজনেই জানি, আমরা একে অন্যের প্রতিপক্ষ নই। বরাবরই আমি আগে সরি বলি। কারণ, রাগ করে তার সঙ্গে কথা না বলে থাকা আমার পক্ষে কঠিন।
প্রতিদিন রাতে তার পিঠ চুলকিয়ে দেওয়াও আমার বিশেষ দায়িত্ব। তার নাকি পিঠ না চুলকালে ঘুম আসে না! এই ছোট্ট আবদারের মধ্যেও আমি খুঁজে পাই তার নির্ভরতা। আমার কাছে সে শুধু স্ত্রী নয়, আমার নিশ্চিন্ত আশ্রয়।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.comভালোবাসা বদলে দেয় মানুষকে
সে আমাকে একটু একটু করে বদলে দিয়েছে। আগে ঢিলেঢালা প্যান্ট-শার্ট পরতাম, পান খেতাম, চুলের দিকেও তেমন খেয়াল ছিল না। এখন তার পছন্দকে গুরুত্ব দিই। এই পরিবর্তন জোর করে নয়; তার ভালোবাসাই আমাকে বদলে দিয়েছে।
সকালে অফিসে যাওয়ার সময় সে আমাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু দেয়। মনে হয়, এই চুমুই আমাকে সারা দিন সতেজ রাখে। কাজের চাপ, ক্লান্তি কিংবা মন খারাপের মধ্যেও মনে পড়ে, বাসায় একজন মানুষ আমার ফেরার অপেক্ষায় আছে।
এই অপেক্ষার নামই হয়তো ভালোবাসা।
কালো বলে যারা অবহেলা করেছিল
বিয়ের সময় কিছু আত্মীয়ের বিস্ময় ছিল, আমি এমন একটি মেয়েকে বিয়ে করলাম কেন! তাদের চোখে আমার বউয়ের গায়ের রংটাই ছিল সবচেয়ে বড় পরিচয়। তারা তার চেহারা দেখেছিল, কিন্তু মনটা চিনতে পারেনি।
আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝি, তারা আমার বউকে দেখেছিল, কিন্তু তার সৌন্দর্য অনুভব করতে পারেনি।
সৌন্দর্য কি শুধু ফরসা মুখে থাকে? সুন্দর চোখ, সুন্দর নাক আর মসৃণ ত্বকই কি একজন মানুষকে সুন্দর করে?
আমার কাছে সৌন্দর্যের মানে এখন অন্য রকম।
সৌন্দর্য হলো, আমি না খেলে যে মানুষটার গলা দিয়ে খাবার নামে না।
সৌন্দর্য হলো, যে আমার মুখ দেখেই মন খারাপ বুঝে ফেলে।
সৌন্দর্য হলো, যে আমার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা বুঝেও অভিযোগ করে না।
সৌন্দর্য হলো, যে আমার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমায়, আবার আমার মন খারাপ হলে বুকের মধ্যে টেনে নেয়।
সৌন্দর্য হলো, যে ঝগড়া করেও দিনশেষে আমার হাতটা ধরে রাখে।
এই সৌন্দর্যের কোনো রং নেই, কোনো মাপজোখ নেই।
একে অন্যকে বুঝতে পারার নামই ভালোবাসা
সে যেন একটা খোলা বইয়ের মতো আমাকে পড়তে পারে। আমার মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলে, ভেতরে কী চলছে। আমিও তার মন খারাপ হলে বোঝার চেষ্টা করি। আমরা কেউই নিখুঁত নই। আমাদের ভুল আছে, অভিমান আছে, মতের অমিল আছে। তবু আমরা একে অন্যকে বুঝতে চাই।
কারণ, ভালোবাসা মানে শুধু সুন্দর মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া নয়; একে অন্যের দুর্বলতা, অপূর্ণতা আর কষ্টকেও আপন করে নেওয়া।
যে মানুষটি আমার সামর্থ্য দেখে ভালোবাসা কমায় না, ব্যর্থতায় অপমান করে না, ছোট ছোট অর্জনেও আনন্দ খুঁজে পায়—সে-ই তো প্রকৃত আপনজন।
আজ কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, আমার বউ কেমন দেখতে, আমি বলব, তার চোখে মায়া, মুখে সরলতা, হাসিতে লজ্জা। তার মনটা ভীষণ সুন্দর। সে আমাকে ভালোবাসে, বোঝে, আগলে রাখে। তার পাশে থাকলে আমার পৃথিবীটাকে নিরাপদ মনে হয়।
জীবনে তাকে হয়তো সব সুখ দিতে পারিনি, কিন্তু সে আমাকে শিখিয়েছে, সুখ মানে দামি উপহার নয়; সুখ মানে একসঙ্গে থাকা, পরস্পরের খোঁজ নেওয়া, ছোট ছোট আবদার পূরণ করা আর দিনশেষে একে অন্যের কাছে ফিরে আসা।
আমি চাই, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার হাত ধরে রাখতে। শেষ বয়সেও পাশাপাশি বসে এক কাপ চা খেতে। সে যেন তখনো আমার বুকে মাথা রেখে বলতে পারে, ‘তুমি পাশে আছ, এটাই আমার সুখ।’
কারণ, রূপ চোখকে মুগ্ধ করতে পারে, কিন্তু মন জয় করে নেয় ভালোবাসা, সততা, মায়া আর পারস্পরিক বোঝাপড়া।
পৃথিবীর চোখে সে হয়তো কালো।
কিন্তু আমার কাছে?
সে আমার হৃদয়ের আলো।
আমার ভালোবাসা। আমার শান্তি।
*লেখক: মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, বনানী, ঢাকা
মঙ্গলবার আলজিয়ার্সে আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সাইফি গরিবের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কাউন্টারে দায়িত্বরত অবস্থায় শাকের হোসেন (৩৯) নামের যুবদলের এক নেতা মারা গেছেন। আজ বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পারনান্দুয়ালী টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের বাস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
পাহাড়ের সবুজের ফাঁকে কোথাও উজ্জ্বল লাল, কোথাও সোনালি হলুদ, আবার কোথাও নীল-বেগুনি রঙের ঝলক।