হোমপেজ লোড হচ্ছে…

সেঞ্চুরির আশা নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন সাদমান ইসলাম। তবে একটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি প্রথম দিনই। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার বল খেললেন দুইশর বেশি। ২১৯ বলে অপরাজিত ৯৯।
তথ্যটি চমকে ওঠার মতোই। উইকেট আঁকড়ে রাখবেন, এক প্রান্তে পড়ে থাকবেন, লম্বা ইনিংস খেলবেন, তার মূল পরিচয় কিংবা তাকে ঘিরে মূল চাওয়া তো এমনই! অথচ দুইশ বল খেলতে তার লেগে গেল ৩২ টেস্ট আর ৬০ ইনিংস।
টেস্ট ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানের, বিশেষ করে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের দুইশ বল খেলা খুবই নিয়মিত ঘটনা কিংবা প্রত্যাশিত ব্যাপার। সেই চাওয়ার সঙ্গে পাওয়া মেটাতে সাদমানের লেগে গেল আট বছর।
অভিষেক টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১৯৯ বলে ৭৬ রান করেছিলেন তিনি। এরপর টেস্ট ক্রিকেটে পথচলায় দুটি সেঞ্চুরি তিনি করেছেন, লড়িয়ে কিছু ইনিংস খেলেছেন, ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন এসেছে। কিন্তু তাকে ঘিরে যে পরিচয়, সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি ২২ গজে।
তিনি পুরোনো ঘরানার টেস্ট ওপেনার, যার কাজ নতুন বলকে পুরোনো করা, আলগা বলের অপেক্ষা করা, সময়কে বেশ করে ইনিংসকে লম্বা করা। সেই কাজটিই টেস্ট ক্রিকেটে বেশির ভাগ সময় তিনি পারছিলেন না। অনেক সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন, অনেক সময় টেকনিকের ঘাটতি প্রকাশ্য হয়েছে, অনেক সময় হারিয়েছেন মনোযোগ আর দলে জায়গা।
নিজের ব্যাটিংয়ের ধরনকেও ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছেন এই সময়ে। মন্থর স্কোরিং রেট নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন একটা সময়ে। একটু আগ্রাসী হওয়া, আধুনিকতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নিজের সহজাত ধরনের সঙ্গে বিদ্রোহ করে ফল যে সবসময় সহায়ক হয় না, সেই বাস্তবতার অনুধাবনও করেছেন।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে যথেষ্ট বিকল্পের অভাবেই হয়তো টিকে গেছেন দলে। আত্মপরিচয় ফুটিয়ে তোলার সুযোগও তো এটি! অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই মিরপুর টেস্টে সেই প্রত্যাশিত চেহারা দেখা গেল তার।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার সকালে উইকেট ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। শুরুতে ছিল আর্দ্রতা। স্পিন ধরেছে সকাল থেকেই। প্রথম সেশনে দুটি উইকেটও হারিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু উইকেটের অবস্থা, সতীর্থদের আত্মহত্যা কিংবা নানা পারিপার্শ্বিকতা, কোনো কিছুই যেন প্রভাবিত করতে পারেনি সাদমানকে। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন নিজের ‘জোনে’, একান্ত ধ্যানে। তার সেই ধ্যান ভাঙাতে পারেনি কেউ বা কিছুই।
তিনি ডিফেন্স করেছেন আত্মবিশ্বাসে, বল ছেড়েছেন নিশ্চয়তায়। ঝুঁকির সঙ্গে দিয়েছেন আড়ি, দিয়েছেন দীর্ঘ পথ পাড়ি। অপেক্ষা করেছেন আলগা বলের, সুযোগ পেলে বাড়িয়েছেন রান আর টেনে নিয়েছেন ইনিংস।
দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীনের ব্যাখাতেও মিশে থাকল এসবই।
“আমি বলব সাদমান উইকেট খুব ভালো পড়তে পেরেছে। পুরো ইনিংসটা যদি দেখেন, সে খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেনি। মাঝে মাঝে হয়তো আমরা অনেক সময় ঝুঁকির শট খেলে ফেলি বা কখনও এরকম পিরিয়ড আসে যখন হয়তো কঠিন সময় আসে, যখন হয়তো আমরা আলগা শট খেলে ফেলি। তবে সে উইকেট বুঝে নিজে কঠিন সময়টা পার করে নিজের নিয়ন্ত্রণে ইনিংসটা খেলছে।”
এই সময়ের ক্রিকেটে যদিও এই ধরনের ওপেনারদের আবেদন কমছে দ্রুতই, তবে বাংলাদেশের মতো দলে, টপ অর্ডারে এই দৃঢ়তা, এই ধৈর্য, এই নির্ভরতা বড্ড জরুরি।
এই ইনিংসটিই হতে পারে সাদমানের ‘টেমপ্লেট।’ হতে পারে টেস্ট ওপেনার হিসেবে তার আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করার ভিত।
এই টেস্টের আগে ৩১ ম্যাচে তার সেঞ্চুরি স্রেফ দুটি। সেই দুটিও আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। একজন টেস্ট ওপেনারের জন্য এই খতিযান বিব্রতকর বটে! বড় ইনিংস খেলতে পারেননি বলেই ব্যাটিং গড় পড়ে রয়েছে তিরিশের নিচে।
নেপালের টি-টোয়েন্টি লিগে মেহেদি একটু খরুচে হলেও, সাকিব ছিলেন আঁটসাঁট।
ব্যাটিং কোচের আশা, এই ইনিংসের পথ ধরেই বড় ইনিংস নিয়মিত আসবে তার ব্যাট থেকে।
“আমার মনে হয়, সে নিজেও হয়তো উপলব্ধি করছে বা এ নিয়ে কোচের সঙ্গে কথা বলেছে। কারণ ওর কনভার্শন রেট আসলে খুব বেশি না। খুব ভালো ফিফটি করেছে…অনেকগুলো ইনিংসেই কিন্তু খুব দাপুটে ফিফটি করেছে, কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেনি। হয়তো কোনো প্রক্রিয়ায় তার সমস্যা ছিল।
“আমি অনেকদিন পরে তার এরকম একটা ইনিংস দেখছি, কারণ সে ৫০-৬০ অনেকগুলো ইনিংসেই করেছে। কিন্তু ইনিংস লম্বা হচ্ছিল না। আমার মনে হয়, এটা নিয়েও সে হয়তো কাজ করেছে। এ কারণে ইনিংসটা লম্বা হয়েছে। আমি আশা করব, সে যেন এটা আরও লম্বা করতে পারে।’
প্রতিটি ক্রিকেটারের জীবনেই এমন সময় আসে, যখন সে নিজেকে ভালোভাবে চিনতে পারে, নিজের জন্য আদর্শ ধরন বা পথটা বেছে নিতে পারে। এই ইনিংসকে সাদমানের জন্য তেমন কিছুই মনে করেন সালাহ উদ্দীন।
আমার মনে হয় এই ইনিংস তার নিজেকে সহায়তা করবে এবং আমার মনে হয় সে নিজেই খুঁজে বের করেছে যে, ওই সময়টা তার কী করা উচিত। আশা করব, এই ইনিংসটা তাকে অনেক কিছু শেখাবে। অনেক কিছুই শেখাবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সেঞ্চুরি করাটা তার জন্য অনেক অনেক সহজ হয়ে যাবে।”
বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সিলেন্স (সিওই) থেকে এখনও মাঠে ফেরার সবুজ সংকেত পাননি ভারতের এই পেসার।
সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত আলিস আল ইসলাম বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেওয়ার আগে অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছেন নেটে।
অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের টায়ার-ই এর শেষ ষোলোয় জিতেছেন বায়েজিদ-রাতুলরা।